যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নেতৃত্বের হাল ধরেন তাঁর ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে নিজেকে আড়ালে রেখে নেপথ্য থেকেই দেশ পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর অবশেষে মোজতবা খামেনির একটি বিরল ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি।
শনিবার (৮ আগস্ট) নিজেদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশ করে মেহের নিউজ। প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, মোজতবা খামেনিকে কয়েকজন মানুষ ঘিরে রেখেছেন এবং তিনি তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন।
তবে ভিডিওটি কখন কিংবা কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য দেয়নি মেহের নিউজ এজেন্সি। এমনকি তাঁকে ঘিরে রাখা ব্যক্তিদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমের সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ভয়াবহ সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও সাধারণ নাগরিক নিহত হন। এর পরপরই মার্চের শুরুর দিকে দেশটির নীতি-নির্ধারণী পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করে। বাবার হত্যাকাণ্ডের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন গোপন আস্তানা থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর হঠাৎ মোজতবা খামেনির এই ভিডিও সামনে আসায়, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা, অবস্থান ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ























