মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, শিশুর সুপ্ত সম্ভাবনা বিকাশে প্রয়োজন সহায়ক পরিবেশ ও সামাজিক জাগরণ। যা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, সমাজের সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করলেই তা অর্জন সম্ভব।
আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে চ্যানেল আই-এর মুস্তাফা মনোয়ার স্টুডিওতে ‘এ্যাক্ট ফর আরলি ইয়ারস: সেইফগাডিং চাইল্ডহুড এ্যান্ড দি প্ল্যানেট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রী একথা বলেন।
বৈঠকে শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, সংবেদনশীল যত্ন, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা, প্রারম্ভিক শিখনের সুযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রতিবন্ধকতা এবং শিশুর সার্বিক বিকাশ-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ শতাংশ শিশু এবং ৫১ শতাংশ নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে কখনোই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপি তার নির্বাচনি ইশতেহারে নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেখানে নারী ও শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (MCBP) আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা রাতের ভোটে বা বিনা ভোটে ক্ষমতায় আসিনি, আমরা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছি, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণের দীর্ঘদিনের অভিপ্রায় ছিলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে যাতে সর্বোচ্চ বাজেট দেওয়া হয়, বর্তমান সরকার তাঁর প্রথম বাজেটেই শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ এবং স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।
অতীতের ভুল-ত্রুটি নিয়ে পড়ে না থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ শিশু জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় শিশু-কেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা, দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে শিশুদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই এবং কমিউনিকেশন পার্টনার হিসেবে ছিলো সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন এন্ড ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব, জাতিসংঘ, ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, সেভ দ্য চিলড্রেন, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ।
বাংলা৭১নিউজ/এবি























