ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পেনে অভিবাসী সংকট : সীমান্তে আরও কড়াকড়ির আহ্বান ইইউ’র

স্পেনের ছিটমহল সেউতায় মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসীর বিশৃঙ্খল অনুপ্রবেশের ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন। তিনি বলেছেন, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

স্পেন সরকারের আনুমানিক তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ অভিবাসী মরক্কোতে ফিরে গেছেন, যা প্রাথমিক ধারণার তুলনায় অনেক বেশি। এ ঘটনায় স্পেনের সীমান্ত অংশে ৭২ জন এবং মরক্কোর অংশে ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এ পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে সংকট মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে।

ইতোমধ্যে সেউতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি সদস্য দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ইতালি স্পেনের সঙ্গে শেনগেন চুক্তির কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক ইতালির এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিশ স্পেনের শেনগেন সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এসব সমালোচনার জবাবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, সেউতা শেনগেন অঞ্চলের অংশ নয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ইউরোপীয় সরকার সংহতির পরিবর্তে পক্ষপাত, ভুয়া তথ্য, অজ্ঞতা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে স্পেনের সমালোচনা করছে।

পেদ্রো সানচেজকে পাঠানো এক চিঠিতে উরসুলা ভন ডার লেয়েন সংকট দ্রুত মোকাবিলায় স্পেন সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তগুলো আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব বহিঃসীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি যৌথ দায়িত্ব। এজন্য প্রয়োজন হলে সীমান্তে ভৌত প্রতিবন্ধকতা স্থাপন এবং কঠোর নজরদারি চালানোরও আহ্বান জানান তিনি।

ভন ডার লেয়েন বলেন, সেউতার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি পাঁচটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে শুরুতেই অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকানো, বহিঃসীমান্ত আরও শক্তিশালী করা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু করা, মানবপাচার ও চোরাচালান চক্র ভেঙে দেওয়া এবং নিজ নিজ দেশে অভিবাসীদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা।

এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অভিবাসী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক এক রায়ের অপব্যবহার করা হচ্ছে। ওই রায়ের ফলে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর সরকারি ক্ষমতা সীমিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সূত্র : বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

স্পেনে অভিবাসী সংকট : সীমান্তে আরও কড়াকড়ির আহ্বান ইইউ’র

আপডেট সময় ০২:২৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

স্পেনের ছিটমহল সেউতায় মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসীর বিশৃঙ্খল অনুপ্রবেশের ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন। তিনি বলেছেন, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ ও সমন্বিত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

স্পেন সরকারের আনুমানিক তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ অভিবাসী মরক্কোতে ফিরে গেছেন, যা প্রাথমিক ধারণার তুলনায় অনেক বেশি। এ ঘটনায় স্পেনের সীমান্ত অংশে ৭২ জন এবং মরক্কোর অংশে ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এ পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে সংকট মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে।

ইতোমধ্যে সেউতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি সদস্য দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ইতালি স্পেনের সঙ্গে শেনগেন চুক্তির কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক ইতালির এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিশ স্পেনের শেনগেন সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এসব সমালোচনার জবাবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, সেউতা শেনগেন অঞ্চলের অংশ নয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ইউরোপীয় সরকার সংহতির পরিবর্তে পক্ষপাত, ভুয়া তথ্য, অজ্ঞতা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে স্পেনের সমালোচনা করছে।

পেদ্রো সানচেজকে পাঠানো এক চিঠিতে উরসুলা ভন ডার লেয়েন সংকট দ্রুত মোকাবিলায় স্পেন সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তগুলো আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব বহিঃসীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি যৌথ দায়িত্ব। এজন্য প্রয়োজন হলে সীমান্তে ভৌত প্রতিবন্ধকতা স্থাপন এবং কঠোর নজরদারি চালানোরও আহ্বান জানান তিনি।

ভন ডার লেয়েন বলেন, সেউতার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি পাঁচটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে শুরুতেই অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকানো, বহিঃসীমান্ত আরও শক্তিশালী করা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু করা, মানবপাচার ও চোরাচালান চক্র ভেঙে দেওয়া এবং নিজ নিজ দেশে অভিবাসীদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা।

এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অভিবাসী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক এক রায়ের অপব্যবহার করা হচ্ছে। ওই রায়ের ফলে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর সরকারি ক্ষমতা সীমিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সূত্র : বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ