ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

ইরান যুদ্ধে কৌশলগত পরাজয়ের পথে যুক্তরাষ্ট্র, মিত্রদের উৎকণ্ঠা!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয় হতে চলেছে। দীর্ঘ ছয় মাসের সামরিক অভিযান সত্ত্বেও তেহরানের বিপক্ষে ঘোষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও ইরানের আচরণ বা নীতিতে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারেনি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কাছে দেশটির এমন অবস্থা কৌশলগত পরাজয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সাবেক কূটনীতিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে শুক্রবার মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এসব দাবি করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নেতৃত্ব ধরে রাখতে বৈশ্বিক পরিসরে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতির মুখে পড়ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এটি রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে এবং একই সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সামরিক চাপ সত্ত্বেও ইরান এখনও আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সক্ষমতা বজায় রেখেছে।

সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণে হরমুজ প্রণালিকে ইরানের অন্যতম প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রণালিটি ঘিরে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা বর্তমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে হরমুজ নিয়ন্ত্রণে তৃতীয় কোনো পক্ষ থাকার বিষয়ে পুরোপুরি দ্বিমত করেছে ইরান। তাই ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরান এই প্রণালিকে গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

এতে দাবি করা হয়, বর্তমানে ইরান তুলনামূলকভাবে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণকারী একটি সরকারের অধীনে আগের তুলনায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান কার্যকর প্রভাব বজায় রেখেছে। এই যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-উভয়ই তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে পড়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার জন্য একটি উপাদানে পরিণত হয়েছে বলে বিশ্বব্যাপী একটি ধারণা জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশের মধ্যে ওয়াশিংটনের নীতিগত ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ বিকল্প কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। কিছু মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ মনে করছে যে চলমান যুদ্ধ তাদের নিজস্ব নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করছে।

তবে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেও, একই সময়ে ইরান, ইউরোপ, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করছে বলে নিবন্ধে মন্তব্য করেছেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভায়েজ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘায়িত যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যেও কৌশলগত মতপার্থক্য বেড়েছে। এছাড়া ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সমঝোতার স্থায়িত্ব নিয়েও সন্দেহ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কিছু পররাষ্ট্রনীতি ও ন্যাটো-সংক্রান্ত অবস্থানের কথাও মনে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গ্রীনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের মনোভাব ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। লন্ডনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চাথাম হাউজের সাবেক পরিচালক রবিন নিবলেটের মতে, এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-নির্ভর মিত্রদের মধ্যে ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থা কমাতে পারে। ভবিষ্যতে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এলেও, অনেকের কাছে এই ধারণা থেকে যাবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অনিশ্চয়তা তাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষই দ্রুত চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের অবস্থানে নেই। সংঘাতটি মাঝে মাঝে যুদ্ধবিরতি এবং পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি দীর্ঘমেয়াদি চক্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

ইরান যুদ্ধে কৌশলগত পরাজয়ের পথে যুক্তরাষ্ট্র, মিত্রদের উৎকণ্ঠা!

আপডেট সময় ০৯:২৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয় হতে চলেছে। দীর্ঘ ছয় মাসের সামরিক অভিযান সত্ত্বেও তেহরানের বিপক্ষে ঘোষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও ইরানের আচরণ বা নীতিতে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারেনি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের কাছে দেশটির এমন অবস্থা কৌশলগত পরাজয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সাবেক কূটনীতিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে শুক্রবার মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এসব দাবি করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নেতৃত্ব ধরে রাখতে বৈশ্বিক পরিসরে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতির মুখে পড়ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এটি রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে এবং একই সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সামরিক চাপ সত্ত্বেও ইরান এখনও আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সক্ষমতা বজায় রেখেছে।

সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণে হরমুজ প্রণালিকে ইরানের অন্যতম প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রণালিটি ঘিরে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা বর্তমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে হরমুজ নিয়ন্ত্রণে তৃতীয় কোনো পক্ষ থাকার বিষয়ে পুরোপুরি দ্বিমত করেছে ইরান। তাই ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরান এই প্রণালিকে গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

এতে দাবি করা হয়, বর্তমানে ইরান তুলনামূলকভাবে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণকারী একটি সরকারের অধীনে আগের তুলনায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। দেশটির পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান কার্যকর প্রভাব বজায় রেখেছে। এই যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-উভয়ই তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে পড়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার জন্য একটি উপাদানে পরিণত হয়েছে বলে বিশ্বব্যাপী একটি ধারণা জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশের মধ্যে ওয়াশিংটনের নীতিগত ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ বিকল্প কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। কিছু মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ মনে করছে যে চলমান যুদ্ধ তাদের নিজস্ব নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করছে।

তবে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেও, একই সময়ে ইরান, ইউরোপ, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করছে বলে নিবন্ধে মন্তব্য করেছেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভায়েজ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘায়িত যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যেও কৌশলগত মতপার্থক্য বেড়েছে। এছাড়া ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সমঝোতার স্থায়িত্ব নিয়েও সন্দেহ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কিছু পররাষ্ট্রনীতি ও ন্যাটো-সংক্রান্ত অবস্থানের কথাও মনে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গ্রীনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের মনোভাব ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। লন্ডনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চাথাম হাউজের সাবেক পরিচালক রবিন নিবলেটের মতে, এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-নির্ভর মিত্রদের মধ্যে ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থা কমাতে পারে। ভবিষ্যতে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এলেও, অনেকের কাছে এই ধারণা থেকে যাবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অনিশ্চয়তা তাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষই দ্রুত চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের অবস্থানে নেই। সংঘাতটি মাঝে মাঝে যুদ্ধবিরতি এবং পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি দীর্ঘমেয়াদি চক্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস