ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৭তম বিসিএস ব্যাচের কুচকাওয়াজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়

পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, বরং এই বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও সম্পূর্ণ মানবিক একটি সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ রোববার (২ আগস্ট) রাজশাহীর ঐতিহাসিক সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের (১ম পর্যায়) সমাপনী কুচকাওয়াজ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশ এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করায় পুলিশ বাহিনীকে চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে বজায় রেখে চলতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুশীলনের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে আধুনিক কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন—আজকের নবীন কর্মকর্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সাথে দীর্ঘ ১৮ বছরের বঞ্চনা পেরিয়ে আসা ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ১ম পর্যায়ের অফিসারদের অভিনন্দন জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ছয় মাসের কঠোর শিক্ষানবিশ পর্ব অতিক্রম করে মোট ৫৮ জন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে তাঁদের বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।

সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরবর্তীতে তিনি প্রশিক্ষণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।

বেস্ট প্রবেশনার ও বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ: প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া উভয় ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

বেস্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম।

বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ. বি. এম মামুন।

অনুষ্ঠান শেষে নবীন এই ৫৮ জন সহকারী পুলিশ সুপার বাস্তব প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পেশাগত ইউনিটে পদায়িত হবেন।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

২৭তম বিসিএস ব্যাচের কুচকাওয়াজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়

আপডেট সময় ১২:৫৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, বরং এই বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও সম্পূর্ণ মানবিক একটি সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ রোববার (২ আগস্ট) রাজশাহীর ঐতিহাসিক সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের (১ম পর্যায়) সমাপনী কুচকাওয়াজ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশ এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করায় পুলিশ বাহিনীকে চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে বজায় রেখে চলতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুশীলনের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে আধুনিক কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন—আজকের নবীন কর্মকর্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সাথে দীর্ঘ ১৮ বছরের বঞ্চনা পেরিয়ে আসা ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ১ম পর্যায়ের অফিসারদের অভিনন্দন জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ছয় মাসের কঠোর শিক্ষানবিশ পর্ব অতিক্রম করে মোট ৫৮ জন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে তাঁদের বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।

সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরবর্তীতে তিনি প্রশিক্ষণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন।

বেস্ট প্রবেশনার ও বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ: প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া উভয় ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

বেস্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম।

বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ. বি. এম মামুন।

অনুষ্ঠান শেষে নবীন এই ৫৮ জন সহকারী পুলিশ সুপার বাস্তব প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পেশাগত ইউনিটে পদায়িত হবেন।

বাংলা৭১নিউজ/এবি