ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফিরে দেখা ২ আগস্ট ২০২৪

রক্তস্নাত রাজপথ, স্বৈরাচারের অন্তিম ছক ও দ্রোহের বাংলাদেশ

২০২৪ সালের ২ আগস্ট। শ্রাবণের অঝোর ধারায় সেদিন কেবল আকাশ কাঁদেনি, রক্তে ভেসেছিল ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ। জুলাই গণহত্যার পর যখন গোটা দেশ শোক, ক্ষোভ আর দ্রোহে ফুঁসে উঠছিল, তখন তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চালিয়েছিল নজিরবিহীন নির্যাতন ও চক্রান্ত। ২ আগস্ট হয়ে উঠেছিল ফ্যাসিবাদের নগ্নতম রূপ প্রকাশ এবং ছাত্র-জনতার অদম্য ‘দ্রোহ যাত্রা’র এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।

অগ্নিগর্ভ রাজপথ
আগস্ট ডিবি কার্যালয় থেকে ছয় সমন্বয়ক মুক্তি পাওয়ার পরদিনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে দেশজুড়ে পালিত হয় ‘দোয়া ও গণমিছিল’ বা ‘দ্রোহ যাত্রা’।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব, শহীদ মিনার, সায়েন্সল্যাব, উত্তরা, রামপুরা এবং শিক্ষক-আইনজীবী-শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হওয়া মিছিল পরিণত হয় প্রতিবাদী জনসমুদ্রে।
মুষলধারে বৃষ্টিকে উপহাস করে লাখো ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?”, “চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার”—এমন ধারালো স্লোগানে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ।

গণভবন থেকে টেলিফোনে চরম বার্তা
ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার আন্দোলন দমাতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ষড়যন্ত্র ত্বরান্বিত করে।
১ আগস্ট জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের পর ২ আগস্টেও ১৪ দলের নেতাদের মাধ্যমে আন্দোলনকে ‘জঙ্গি তৎপরতা’ এবং ‘জাতীয় সুরক্ষার ওপর হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার কৌশল চালানো হয়।
পুলিশ প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে ওপর মহল থেকে টেলিফোনে নির্দেশ যায়—‘যেভাবেই হোক রাজপথ খালি করতে হবে’। বলপ্রয়োগ, সাউন্ড গ্রেনেড ও তাজা বুলেটের সর্বাত্মক ব্যবহারের বার্তা পৌঁছানো হয় মাঠে থাকা বাহিনীগুলোর কাছে।

পুলিশ-বিজিবি সাথে আর্মির বিরোধ
রাজপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান সেদিন ছিল রক্তক্ষয়ী ও থমথমে।
খুলনা, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় মিছিল লক্ষ্য করে পুলিশ ও বিজিবি ছড়ায় টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ছররা গুলি। হবিগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান প্রসেস সার্ভার মুশতাক আহমেদসহ একাধিক আন্দোলনকারী, আহত হন শত শত মানুষ।
সরকার সেনাবাহিনীকে আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোর চাপ দিলেও, মাঠে থাকা সেনাসদস্যদের বড় একটি অংশ জনতার দিকে মারণাস্ত্র তুলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। এই ভেতরের টানাপোড়েন ফ্যাসিবাদের ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দেয়।

স্বজনদের আহাজারি
২ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সলিমুল্লাহ মেডিকেল (মিটফোর্ড), সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম ও হবিগঞ্জের হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ পরিণত হয়েছিল যুদ্ধক্ষেত্রের ফিল্ড হাসপাতালে।
মুহূর্তের ব্যবধানে রিকশা ও অ্যাম্বুলেন্সে করে আসতে থাকে গুলিবিদ্ধ তরুণ ও পথচারীরা। রক্ত জোগাড় করতে স্বজন ও স্বেচ্ছাসেবকদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের বাতাস।
একদিকে স্বজন হারানোর কান্না, অন্যদিকে লাশ নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া ও আইনি হয়রানির ভয়ে তড়িঘড়ি করে স্বজনদের লাশ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ছিল এক করুণ দৃশ্য।

একাংশের অপসংবাদিকতা
যখন রাজপথে তরুণদের রক্ত ঝরছিল, তখন তৎকালীন প্রশাসনের আমলা ও গণমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত।
সরকারের ঘনিষ্ঠ আমলারা এই গণঅভ্যুত্থানকে ‘কতিপয় বিশৃঙ্খলাকারীর কাজ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সংবাদ সম্মেলন ও বিবৃতিতে সরকারের দমনপীড়নকে জায়েজ করার চেষ্টা চালান।
প্রধান সারির কিছু টিভি চ্যানেল ও গণমাধ্যম রাজপথের তাজা বুলেটের খবর চেপে গিয়ে কেবল ‘নাশকতা’ ও ‘সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের’ খবর পরিবেশনে ব্যস্ত ছিল। তবে এই দালালির তোয়াক্কা না করে স্বাধীন সাংবাদিক ও নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে আনেন আসল সত্য।

হতাহত ও গ্রেপ্তার চিত্র
১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য গণনায় নিহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তত ২০১ জনে পৌঁছেছিল। ২ আগস্ট হবিগঞ্জ ও খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সংঘাত-সহিংসতায় আরও অন্তত ২ জন (১ জন পথচারী শ্রমজীবী ও ১ জন পুলিশ সদস্য) নিহত হন।
২ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘দ্রোহ যাত্রা’ ও গণমিছিলে সিলেট, হবিগঞ্জ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীসহ দেশজুড়ে পুলিশ ও সরকারি দলের হামলায় অন্তত ২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।
২ আগস্টেও সারা দেশে অব্যাহত থাকে ‘ব্লক রেইড’। গভীর রাতে বাসা-বাড়ি থেকে শিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আন্দোলন শুরুর পর থেকে ততদিনে সারা দেশে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১৫ হাজার। সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মনে তৈরি করা হয় আতঙ্কের রাজত্ব।

পতনযাত্রার শেষ কাউন্টডাউন
২ আগস্ট ২০২৪ ছিল সেই দিন, যেদিন বন্দুকের নল, টেলিফোনের হুমকি, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন কিংবা আমলা-সাংবাদিকদের তোষামোদ—কোনো কিছুই ছাত্র-জনতার জোয়ার থামাতে পারেনি। রক্তে রাঙানো রাজপথ থেকে সেদিন স্পষ্ট বার্তা গিয়েছিল: “অত্যাচারের দিন শেষ, ফ্যাসিবাদের তাসের ঘর ভাঙতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি।”

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফিরে দেখা ২ আগস্ট ২০২৪

রক্তস্নাত রাজপথ, স্বৈরাচারের অন্তিম ছক ও দ্রোহের বাংলাদেশ

আপডেট সময় ১০:০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের ২ আগস্ট। শ্রাবণের অঝোর ধারায় সেদিন কেবল আকাশ কাঁদেনি, রক্তে ভেসেছিল ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ। জুলাই গণহত্যার পর যখন গোটা দেশ শোক, ক্ষোভ আর দ্রোহে ফুঁসে উঠছিল, তখন তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চালিয়েছিল নজিরবিহীন নির্যাতন ও চক্রান্ত। ২ আগস্ট হয়ে উঠেছিল ফ্যাসিবাদের নগ্নতম রূপ প্রকাশ এবং ছাত্র-জনতার অদম্য ‘দ্রোহ যাত্রা’র এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।

অগ্নিগর্ভ রাজপথ
আগস্ট ডিবি কার্যালয় থেকে ছয় সমন্বয়ক মুক্তি পাওয়ার পরদিনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে দেশজুড়ে পালিত হয় ‘দোয়া ও গণমিছিল’ বা ‘দ্রোহ যাত্রা’।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব, শহীদ মিনার, সায়েন্সল্যাব, উত্তরা, রামপুরা এবং শিক্ষক-আইনজীবী-শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হওয়া মিছিল পরিণত হয় প্রতিবাদী জনসমুদ্রে।
মুষলধারে বৃষ্টিকে উপহাস করে লাখো ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?”, “চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার”—এমন ধারালো স্লোগানে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ।

গণভবন থেকে টেলিফোনে চরম বার্তা
ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার আন্দোলন দমাতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ষড়যন্ত্র ত্বরান্বিত করে।
১ আগস্ট জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের পর ২ আগস্টেও ১৪ দলের নেতাদের মাধ্যমে আন্দোলনকে ‘জঙ্গি তৎপরতা’ এবং ‘জাতীয় সুরক্ষার ওপর হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার কৌশল চালানো হয়।
পুলিশ প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে ওপর মহল থেকে টেলিফোনে নির্দেশ যায়—‘যেভাবেই হোক রাজপথ খালি করতে হবে’। বলপ্রয়োগ, সাউন্ড গ্রেনেড ও তাজা বুলেটের সর্বাত্মক ব্যবহারের বার্তা পৌঁছানো হয় মাঠে থাকা বাহিনীগুলোর কাছে।

পুলিশ-বিজিবি সাথে আর্মির বিরোধ
রাজপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান সেদিন ছিল রক্তক্ষয়ী ও থমথমে।
খুলনা, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় মিছিল লক্ষ্য করে পুলিশ ও বিজিবি ছড়ায় টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ছররা গুলি। হবিগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান প্রসেস সার্ভার মুশতাক আহমেদসহ একাধিক আন্দোলনকারী, আহত হন শত শত মানুষ।
সরকার সেনাবাহিনীকে আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোর চাপ দিলেও, মাঠে থাকা সেনাসদস্যদের বড় একটি অংশ জনতার দিকে মারণাস্ত্র তুলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। এই ভেতরের টানাপোড়েন ফ্যাসিবাদের ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দেয়।

স্বজনদের আহাজারি
২ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সলিমুল্লাহ মেডিকেল (মিটফোর্ড), সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম ও হবিগঞ্জের হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ পরিণত হয়েছিল যুদ্ধক্ষেত্রের ফিল্ড হাসপাতালে।
মুহূর্তের ব্যবধানে রিকশা ও অ্যাম্বুলেন্সে করে আসতে থাকে গুলিবিদ্ধ তরুণ ও পথচারীরা। রক্ত জোগাড় করতে স্বজন ও স্বেচ্ছাসেবকদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের বাতাস।
একদিকে স্বজন হারানোর কান্না, অন্যদিকে লাশ নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া ও আইনি হয়রানির ভয়ে তড়িঘড়ি করে স্বজনদের লাশ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ছিল এক করুণ দৃশ্য।

একাংশের অপসংবাদিকতা
যখন রাজপথে তরুণদের রক্ত ঝরছিল, তখন তৎকালীন প্রশাসনের আমলা ও গণমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত।
সরকারের ঘনিষ্ঠ আমলারা এই গণঅভ্যুত্থানকে ‘কতিপয় বিশৃঙ্খলাকারীর কাজ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সংবাদ সম্মেলন ও বিবৃতিতে সরকারের দমনপীড়নকে জায়েজ করার চেষ্টা চালান।
প্রধান সারির কিছু টিভি চ্যানেল ও গণমাধ্যম রাজপথের তাজা বুলেটের খবর চেপে গিয়ে কেবল ‘নাশকতা’ ও ‘সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের’ খবর পরিবেশনে ব্যস্ত ছিল। তবে এই দালালির তোয়াক্কা না করে স্বাধীন সাংবাদিক ও নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে আনেন আসল সত্য।

হতাহত ও গ্রেপ্তার চিত্র
১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য গণনায় নিহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তত ২০১ জনে পৌঁছেছিল। ২ আগস্ট হবিগঞ্জ ও খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সংঘাত-সহিংসতায় আরও অন্তত ২ জন (১ জন পথচারী শ্রমজীবী ও ১ জন পুলিশ সদস্য) নিহত হন।
২ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘দ্রোহ যাত্রা’ ও গণমিছিলে সিলেট, হবিগঞ্জ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীসহ দেশজুড়ে পুলিশ ও সরকারি দলের হামলায় অন্তত ২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।
২ আগস্টেও সারা দেশে অব্যাহত থাকে ‘ব্লক রেইড’। গভীর রাতে বাসা-বাড়ি থেকে শিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আন্দোলন শুরুর পর থেকে ততদিনে সারা দেশে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১৫ হাজার। সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মনে তৈরি করা হয় আতঙ্কের রাজত্ব।

পতনযাত্রার শেষ কাউন্টডাউন
২ আগস্ট ২০২৪ ছিল সেই দিন, যেদিন বন্দুকের নল, টেলিফোনের হুমকি, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন কিংবা আমলা-সাংবাদিকদের তোষামোদ—কোনো কিছুই ছাত্র-জনতার জোয়ার থামাতে পারেনি। রক্তে রাঙানো রাজপথ থেকে সেদিন স্পষ্ট বার্তা গিয়েছিল: “অত্যাচারের দিন শেষ, ফ্যাসিবাদের তাসের ঘর ভাঙতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি।”

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি