ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে সবজির দাম চড়া

টানা বৃষ্টি ও দেশের কয়েকটি অঞ্চলের বন্যার প্রভাব এখনও কাটেনি রাজধানীর কাঁচাবাজারে। সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দামে তার প্রতিফলন নেই। বরং সপ্তাহের ব্যবধানে আরও বেড়েছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম।

একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উচ্চমূল্যে আটকে আছে বেশিরভাগ সবজি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা বা তার বেশি দরে, আর কাঁচামরিচের কেজি পৌঁছেছে ৪০০ টাকায়। ফলে মাসের শেষ সময়ে নিত্যপণ্যের বাড়তি ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতা-ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা প্রতি ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে আধা কেজি বা এক কেজি কিনলে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কম রাখা হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী আড়তের সবজি বিক্রেতা আবুল কালাম বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে এটি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তার আগের সপ্তাহে ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

কাঁচামরিচের পাশাপাশি বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দামও। দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগে মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চার দিন আগেও একই পণ্য ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেছে।

শান্তিনগর বাজারের বিক্রেতা এমদাদুল বলেন, পাইকারি বাজারেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাবনার ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাসের শুরুতে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে যে মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি কমেনি। বাজারে দু-একটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও অধিকাংশ সবজিই ১০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। গোল কালো বেগুনের দাম ১৮০ টাকা এবং সাদা বেগুন ১৪০ টাকা কেজি। বাজারভেদে দামে ১০ থেকে ২০ টাকার পার্থক্য দেখা গেলেও উচ্চমূল্যের প্রবণতা অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ধুন্দুল ও পটলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আগে ১০০ টাকার ওপরে থাকলেও এখন বাজারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বরবটি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা রাকিব হোসেন বলেন, দুই-তিন ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে বেগুনসহ কয়েকটি সবজির দাম আবারও বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই।

বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ ধরে কাঁচাবাজারে উচ্চমূল্যের কারণে সংসারের খরচ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মরিচ, পেঁয়াজ, ডিম ও প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বাড়ায় মাসের শেষ সময়ে পরিবারের ব্যয় আরও বেড়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে পণ্য কিনে খরচ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিক্রেতাদের আশা, আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে এবং উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সরবরাহ আরও বাড়লে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কাঁচাবাজারে দামের চাপ কিছুটা কমতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩

বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে সবজির দাম চড়া

আপডেট সময় ১২:০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও দেশের কয়েকটি অঞ্চলের বন্যার প্রভাব এখনও কাটেনি রাজধানীর কাঁচাবাজারে। সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দামে তার প্রতিফলন নেই। বরং সপ্তাহের ব্যবধানে আরও বেড়েছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম।

একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উচ্চমূল্যে আটকে আছে বেশিরভাগ সবজি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা বা তার বেশি দরে, আর কাঁচামরিচের কেজি পৌঁছেছে ৪০০ টাকায়। ফলে মাসের শেষ সময়ে নিত্যপণ্যের বাড়তি ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতা-ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা প্রতি ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে আধা কেজি বা এক কেজি কিনলে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কম রাখা হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী আড়তের সবজি বিক্রেতা আবুল কালাম বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে এটি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তার আগের সপ্তাহে ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

কাঁচামরিচের পাশাপাশি বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দামও। দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগে মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চার দিন আগেও একই পণ্য ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেছে।

শান্তিনগর বাজারের বিক্রেতা এমদাদুল বলেন, পাইকারি বাজারেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাবনার ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ ৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাসের শুরুতে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে যে মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি কমেনি। বাজারে দু-একটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও অধিকাংশ সবজিই ১০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। গোল কালো বেগুনের দাম ১৮০ টাকা এবং সাদা বেগুন ১৪০ টাকা কেজি। বাজারভেদে দামে ১০ থেকে ২০ টাকার পার্থক্য দেখা গেলেও উচ্চমূল্যের প্রবণতা অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ধুন্দুল ও পটলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আগে ১০০ টাকার ওপরে থাকলেও এখন বাজারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বরবটি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা রাকিব হোসেন বলেন, দুই-তিন ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে বেগুনসহ কয়েকটি সবজির দাম আবারও বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই।

বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ ধরে কাঁচাবাজারে উচ্চমূল্যের কারণে সংসারের খরচ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মরিচ, পেঁয়াজ, ডিম ও প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বাড়ায় মাসের শেষ সময়ে পরিবারের ব্যয় আরও বেড়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে পণ্য কিনে খরচ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিক্রেতাদের আশা, আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে এবং উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সরবরাহ আরও বাড়লে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কাঁচাবাজারে দামের চাপ কিছুটা কমতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস