ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

একদিনেই ৪৫০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য বৃদ্ধি, ইতিহাস গড়লো মাইক্রোসফট

ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের পর একদিনেই প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য বাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) লেনদেন শেষে মাইক্রোসফটের শেয়ারদর ১৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। এর ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলএসইজি-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো কোম্পানির ইতিহাসে একদিনে বাজারমূল্য বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় রেকর্ড। এর আগে ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া একদিনে ৪৪১ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য বাড়িয়ে রেকর্ড গড়েছিল।

মাইক্রোসফটের সর্বশেষ আর্থিক ফলাফল বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত থেকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

জ্যাকস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বাজার কৌশলবিদ ব্রায়ান মুলবেরি বলেন, মাইক্রোসফট খুবই শক্তিশালী একটি প্রান্তিক পার করেছে। বাজার যে ধরনের বার্তা শুনতে চেয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি ঠিক সেটিই দিয়েছে। প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল ক্লাউড ও এআই বিভাগ।

সাম্প্রতিক ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে মাইক্রোসফটের বিপুল বিনিয়োগ ধীরে ধীরে সুফল দিতে শুরু করেছে। এর ফলে ডেটা সেন্টার ও কম্পিউটিং অবকাঠামোয় অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কমেছে।

চলতি বছরে মাইক্রোসফটের শেয়ারদর প্রযুক্তি খাতের ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ কোম্পানিগুলোর তুলনায় পিছিয়ে ছিল। বুধবার পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রায় ১৮ শতাংশ কমেছিল।

তবে সর্বশেষ ফল প্রকাশের পর অন্তত নয়টি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের শেয়ারের লক্ষ্যমূল্য বাড়িয়েছে। বর্তমানে গড় লক্ষ্যমূল্য ধরা হচ্ছে ৫৬০ দশমিক ৯০ ডলার।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসছে না। ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) ৫০০০ কোটি ডলার এবং ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বছরে মোট ১,৭৫০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিরেকশনের ক্যাপিটাল মার্কেটস বিভাগের প্রধান জেক বেহান বলেন, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—মাইক্রোসফট কি এআই খাতে কত ব্যয় করছে, সেই আলোচনা থেকে বেরিয়ে এসে সেই বিনিয়োগ থেকে কত আয় করছে, সেটি দেখাতে পারবে কি না। সর্বশেষ ফলাফল বলছে, এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩

একদিনেই ৪৫০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য বৃদ্ধি, ইতিহাস গড়লো মাইক্রোসফট

আপডেট সময় ০৯:৫৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের পর একদিনেই প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য বাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) লেনদেন শেষে মাইক্রোসফটের শেয়ারদর ১৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। এর ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলএসইজি-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো কোম্পানির ইতিহাসে একদিনে বাজারমূল্য বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় রেকর্ড। এর আগে ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া একদিনে ৪৪১ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য বাড়িয়ে রেকর্ড গড়েছিল।

মাইক্রোসফটের সর্বশেষ আর্থিক ফলাফল বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত থেকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

জ্যাকস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বাজার কৌশলবিদ ব্রায়ান মুলবেরি বলেন, মাইক্রোসফট খুবই শক্তিশালী একটি প্রান্তিক পার করেছে। বাজার যে ধরনের বার্তা শুনতে চেয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি ঠিক সেটিই দিয়েছে। প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল ক্লাউড ও এআই বিভাগ।

সাম্প্রতিক ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে মাইক্রোসফটের বিপুল বিনিয়োগ ধীরে ধীরে সুফল দিতে শুরু করেছে। এর ফলে ডেটা সেন্টার ও কম্পিউটিং অবকাঠামোয় অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কমেছে।

চলতি বছরে মাইক্রোসফটের শেয়ারদর প্রযুক্তি খাতের ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ কোম্পানিগুলোর তুলনায় পিছিয়ে ছিল। বুধবার পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রায় ১৮ শতাংশ কমেছিল।

তবে সর্বশেষ ফল প্রকাশের পর অন্তত নয়টি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের শেয়ারের লক্ষ্যমূল্য বাড়িয়েছে। বর্তমানে গড় লক্ষ্যমূল্য ধরা হচ্ছে ৫৬০ দশমিক ৯০ ডলার।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসছে না। ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) ৫০০০ কোটি ডলার এবং ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বছরে মোট ১,৭৫০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিরেকশনের ক্যাপিটাল মার্কেটস বিভাগের প্রধান জেক বেহান বলেন, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—মাইক্রোসফট কি এআই খাতে কত ব্যয় করছে, সেই আলোচনা থেকে বেরিয়ে এসে সেই বিনিয়োগ থেকে কত আয় করছে, সেটি দেখাতে পারবে কি না। সর্বশেষ ফলাফল বলছে, এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

বাংলা৭১নিউজ/জেএস