ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনসেবার রেকর্ড থাকলেই কাউন্সিলর পদে সুপারিশ করা হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

আগামী নির্বাচনে যিনি নিজ এলাকায় জনসেবামূলক কাজ করবেন এবং সেই কাজের প্রমাণ দেখাতে পারবেন, তাকেই কাউন্সিলর পদে সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ডিএনসিসির অঞ্চল-১ এর আওতাধীন উত্তরা এলাকায় স্থানীয় সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘শুধু পদ-পদবি থাকলেই কাউন্সিলর হওয়া যায় না। জনগণের কাছে যেতে হবে, তাদের জন্য কাজ করতে হবে। আগামী নির্বাচনে যিনি এলাকায় জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন এবং তার প্রমাণ দেখাতে পারবেন, তাকেই কাউন্সিলর পদে সুপারিশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুধু পদ-পদবির ভিত্তিতে কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন না। জনগণের আস্থা অর্জন করে তাদের পাশে থেকে কাজ করাই হবে মনোনয়নের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।’

মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘জনগণের সরকার হিসেবে বর্তমান সরকার মানুষের সেবায় কাজ করছে। তাই জনগণের সেবা করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। বিভিন্ন এলাকায় এখনও নানা সমস্যা রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সেসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকার কিছু এলাকায় পানির সংকট তীব্র ছিল। ওয়াসার সহযোগিতায় কয়েকটি স্থানে পানির পাম্প স্থাপন করে এ সংকট অনেকটাই দূর করা সম্ভব হয়েছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘বর্তমানে মশার উপদ্রব আগের তুলনায় কমেছে। খাল পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ফলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের সহযোগিতায় খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গুমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।’

হকারদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুনর্বাসনের জন্য নির্ধারিত স্থানে না গিয়ে অনেক হকার আবার ফুটপাতে বসছেন। এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। হকার ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।’

এ সময় তিনি এলাকার রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ, সড়কবাতির উন্নয়ন এবং অন্যান্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

ব্যবসায়ীদের ট্যাক্স কমানোর দাবির বিষয়ে প্রশাসক বলেন, কর নির্ধারণ যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বাসিন্দাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

অঞ্চল-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা এবং এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জনসেবার রেকর্ড থাকলেই কাউন্সিলর পদে সুপারিশ করা হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

আপডেট সময় ১০:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

আগামী নির্বাচনে যিনি নিজ এলাকায় জনসেবামূলক কাজ করবেন এবং সেই কাজের প্রমাণ দেখাতে পারবেন, তাকেই কাউন্সিলর পদে সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ডিএনসিসির অঞ্চল-১ এর আওতাধীন উত্তরা এলাকায় স্থানীয় সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘শুধু পদ-পদবি থাকলেই কাউন্সিলর হওয়া যায় না। জনগণের কাছে যেতে হবে, তাদের জন্য কাজ করতে হবে। আগামী নির্বাচনে যিনি এলাকায় জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন এবং তার প্রমাণ দেখাতে পারবেন, তাকেই কাউন্সিলর পদে সুপারিশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুধু পদ-পদবির ভিত্তিতে কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন না। জনগণের আস্থা অর্জন করে তাদের পাশে থেকে কাজ করাই হবে মনোনয়নের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।’

মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘জনগণের সরকার হিসেবে বর্তমান সরকার মানুষের সেবায় কাজ করছে। তাই জনগণের সেবা করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। বিভিন্ন এলাকায় এখনও নানা সমস্যা রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সেসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকার কিছু এলাকায় পানির সংকট তীব্র ছিল। ওয়াসার সহযোগিতায় কয়েকটি স্থানে পানির পাম্প স্থাপন করে এ সংকট অনেকটাই দূর করা সম্ভব হয়েছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘বর্তমানে মশার উপদ্রব আগের তুলনায় কমেছে। খাল পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ফলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের সহযোগিতায় খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গুমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।’

হকারদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুনর্বাসনের জন্য নির্ধারিত স্থানে না গিয়ে অনেক হকার আবার ফুটপাতে বসছেন। এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। হকার ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।’

এ সময় তিনি এলাকার রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ, সড়কবাতির উন্নয়ন এবং অন্যান্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

ব্যবসায়ীদের ট্যাক্স কমানোর দাবির বিষয়ে প্রশাসক বলেন, কর নির্ধারণ যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বাসিন্দাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

অঞ্চল-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা এবং এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস