ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তারের দাবিতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ Logo হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি Logo ভূমিকম্প: জাপানে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান Logo সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেফতার না করার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত Logo সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন Logo দেশের ৯ অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা, ঢাকায় বৃষ্টি-বজ্রপাতের আভাস Logo ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে মধুমিতা সরকারের Logo ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দল Logo অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিআইডি ও বিকাশের যৌথ ক্যাম্পেইন Logo আজাদ কাশ্মীরে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে নিহত ৩০

বন্ধ হচ্ছে সিএনজি স্টেশন, বাসায়ও জ্বলছে না চুলা

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন সবচেয়ে বেশি পড়েছে সিএনজি স্টেশন, বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায়। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে রাজধানীর একের পর এক সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে, বাসাবাড়িতেও লাইনে গ্যাস না থাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ভোগান্তিতে পড়ছে নগরবাসী।

জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকেই গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে প্রতিদিনের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে সংকট ও ভোগান্তির এমন চিত্র দেখা গেছে।

অনেক স্টেশন গ্যাসের চাপ না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। কোথাও কোথাও সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ হলেও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।

ধানমন্ডির এক সিএনজিচালক বলেন, আগে দিনে একবার গ্যাস নিয়ে সারাদিন গাড়ি চালাতে পারতাম। এখন গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় গ্যাসই পাওয়া যায় না। এতে দৈনিক আয় কমে গেছে।

ট্যাক্সিক্যাব চালক মিজান বলেন, গ্যাস না পাওয়ায় নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। যাত্রী ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে শুধু চালকরাই নন, যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।

চানখাঁরপুল এলাকায় সিএনজিচালক সবুজ বলেন, কয়েকটা পাম্প ঘুরে এখানে আসলাম। এসে দেখি পাম্প বন্ধ, গ্যাস নেই। বাইরে সাইনবোর্ড লাগায়ে রাখছে-লাইনে গ্যাস নেই। গাড়ি না চলালে আমাদের সংসার চালানো কষ্ট।

 

অন্যদিকে গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। রাজধানীর বহু এলাকায় বাসাবাড়িতে দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার, ইনডাকশন চুলা কিংবা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। এতে বাড়তি খরচের চাপ বাড়ছে।

তাসলিমা নামে মিরপুরের এক গৃহিণী বলেন, সকালে চুলা জ্বলে না, দুপুরেও একই অবস্থা। রাতে সামান্য গ্যাস এলে তখন রান্না করতে হয়। একটা তরকারি রান্না করতেই অনেক সময় লেগে যাচ্ছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাতেও। অনেক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন কমে গেছে। কোনো কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালালেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে আরএলএনজি সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমেছে। এ কারণে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।

এদিকে, দেশের চলমান গ্যাস সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে। এতে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। তবে মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি কার্গো খালাস সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের চাপ কমে গেছে। পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএন

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তারের দাবিতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ

বন্ধ হচ্ছে সিএনজি স্টেশন, বাসায়ও জ্বলছে না চুলা

আপডেট সময় ১১:২৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন সবচেয়ে বেশি পড়েছে সিএনজি স্টেশন, বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায়। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে রাজধানীর একের পর এক সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে, বাসাবাড়িতেও লাইনে গ্যাস না থাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ভোগান্তিতে পড়ছে নগরবাসী।

জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকেই গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে প্রতিদিনের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে সংকট ও ভোগান্তির এমন চিত্র দেখা গেছে।

অনেক স্টেশন গ্যাসের চাপ না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। কোথাও কোথাও সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ হলেও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।

ধানমন্ডির এক সিএনজিচালক বলেন, আগে দিনে একবার গ্যাস নিয়ে সারাদিন গাড়ি চালাতে পারতাম। এখন গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় গ্যাসই পাওয়া যায় না। এতে দৈনিক আয় কমে গেছে।

ট্যাক্সিক্যাব চালক মিজান বলেন, গ্যাস না পাওয়ায় নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। যাত্রী ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে শুধু চালকরাই নন, যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।

চানখাঁরপুল এলাকায় সিএনজিচালক সবুজ বলেন, কয়েকটা পাম্প ঘুরে এখানে আসলাম। এসে দেখি পাম্প বন্ধ, গ্যাস নেই। বাইরে সাইনবোর্ড লাগায়ে রাখছে-লাইনে গ্যাস নেই। গাড়ি না চলালে আমাদের সংসার চালানো কষ্ট।

 

অন্যদিকে গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। রাজধানীর বহু এলাকায় বাসাবাড়িতে দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার, ইনডাকশন চুলা কিংবা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। এতে বাড়তি খরচের চাপ বাড়ছে।

তাসলিমা নামে মিরপুরের এক গৃহিণী বলেন, সকালে চুলা জ্বলে না, দুপুরেও একই অবস্থা। রাতে সামান্য গ্যাস এলে তখন রান্না করতে হয়। একটা তরকারি রান্না করতেই অনেক সময় লেগে যাচ্ছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাতেও। অনেক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন কমে গেছে। কোনো কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালালেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে আরএলএনজি সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমেছে। এ কারণে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।

এদিকে, দেশের চলমান গ্যাস সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে। এতে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। তবে মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি কার্গো খালাস সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের চাপ কমে গেছে। পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএন