ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সার্ককে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ Logo রাতের মধ্যে সাত অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা Logo অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির বৈঠক : ব্যাংক ও মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা Logo পাঁচ জেলা নিয়ে বগুড়াকে বিভাগ ঘোষণা করা হচ্ছে Logo চা শিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর Logo বন্যার্তদের একদিনের বেতন দিলেন ইউসিবি কর্মীরা, চট্টগ্রামে ত্রাণ বিতরণ Logo নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার Logo বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন Logo পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স‌ঙ্গে আইএফআরসির প্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ Logo ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হবে

প্রয়োজন হলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেব: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে দ্বিধা করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিবিসিকে দেওয়া প্রথম বড় সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠক ইতিবাচক ছিল এবং তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘খুবই আন্তরিক’ বলে মনে করেন। তবে ট্রাম্পকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না- এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে যান তিনি।

একই প্রশ্ন দুবার করা হলেও বার্নহ্যাম বলেন, “পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে। পরিস্থিতি যেমন এগোবে, সেভাবেই বিষয়গুলো মূল্যায়ন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমি কখনওই বলতে পারি না যে, ট্রাম্পের সঙ্গে আমার মতপার্থক্য হবে না। যদি যুক্তরাজ্যের জন্য ভিন্ন অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই আমি সেটি প্রকাশ করব।”

জাতীয় স্বার্থই সবার আগে
ট্রাম্পকে প্রয়োজন হলে প্রকাশ্যে সমালোচনা করবেন কি না- এ প্রশ্নের জবাবে বার্নহ্যাম স্পষ্টভাবে বলেন, “অবশ্যই।”

তিনি বলেন, “সবার আগে নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চাইলে সেটাই করতে হবে।”

বার্নহ্যাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী হলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বদলাবে না।

তার ভাষায়, “আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের কাছাকাছি থাকা। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও সেটি বদলাবে না।”

ইরান ইস্যুতেও উদ্বেগ
সাক্ষাৎকারে ইরান প্রসঙ্গেও কথা বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু করায় তার উদ্বেগ ছিল। এ ধরনের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে তিনি কখনও পিছপা হবেন না বলেও মন্তব্য করেন।

বার্নহ্যাম বলেন, “আমি যা সঠিক মনে করি, তা বলতে কখনওই দ্বিধা করব না।”

প্রতিরক্ষা ব্যয় ইস্যু
সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।

দেশটির সরকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি কবে বাস্তবায়ন করবে- এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা দিতে রাজি হননি তিনি।

উল্লেখ্য, আগের সরকারের চ্যান্সেলর জন হিলি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি না থাকায় পদত্যাগ করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, এ প্রতিশ্রুতি ছাড়া দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে বার্নহ্যাম বলেন, তিনি নতুন চ্যান্সেলরকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে তার অবস্থান জেনেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন আমাদের প্রথম কাজ হলো প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করা। বছরের শেষ দিকে বাজেট ঘোষণার আগে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করব।”

জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য নিয়ে আবারও প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেই পথ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।”

আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ
সাক্ষাৎকারে আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়েও অবস্থান পরিষ্কার করেন বার্নহ্যাম।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, ২০২৯ সালের আগে আগাম জাতীয় নির্বাচনের কোনও পরিকল্পনা নেই।

তার ভাষায়, “আমি আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করছি। আমার মনে হয় না জনগণ এখন তা চায়।”

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের পরিস্থিতিকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা।

সূত্র: বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সার্ককে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ

প্রয়োজন হলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেব: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:১৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে দ্বিধা করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিবিসিকে দেওয়া প্রথম বড় সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠক ইতিবাচক ছিল এবং তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘খুবই আন্তরিক’ বলে মনে করেন। তবে ট্রাম্পকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না- এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে যান তিনি।

একই প্রশ্ন দুবার করা হলেও বার্নহ্যাম বলেন, “পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে। পরিস্থিতি যেমন এগোবে, সেভাবেই বিষয়গুলো মূল্যায়ন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমি কখনওই বলতে পারি না যে, ট্রাম্পের সঙ্গে আমার মতপার্থক্য হবে না। যদি যুক্তরাজ্যের জন্য ভিন্ন অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই আমি সেটি প্রকাশ করব।”

জাতীয় স্বার্থই সবার আগে
ট্রাম্পকে প্রয়োজন হলে প্রকাশ্যে সমালোচনা করবেন কি না- এ প্রশ্নের জবাবে বার্নহ্যাম স্পষ্টভাবে বলেন, “অবশ্যই।”

তিনি বলেন, “সবার আগে নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চাইলে সেটাই করতে হবে।”

বার্নহ্যাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী হলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বদলাবে না।

তার ভাষায়, “আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের কাছাকাছি থাকা। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও সেটি বদলাবে না।”

ইরান ইস্যুতেও উদ্বেগ
সাক্ষাৎকারে ইরান প্রসঙ্গেও কথা বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু করায় তার উদ্বেগ ছিল। এ ধরনের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে তিনি কখনও পিছপা হবেন না বলেও মন্তব্য করেন।

বার্নহ্যাম বলেন, “আমি যা সঠিক মনে করি, তা বলতে কখনওই দ্বিধা করব না।”

প্রতিরক্ষা ব্যয় ইস্যু
সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।

দেশটির সরকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি কবে বাস্তবায়ন করবে- এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা দিতে রাজি হননি তিনি।

উল্লেখ্য, আগের সরকারের চ্যান্সেলর জন হিলি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি না থাকায় পদত্যাগ করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, এ প্রতিশ্রুতি ছাড়া দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে বার্নহ্যাম বলেন, তিনি নতুন চ্যান্সেলরকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে তার অবস্থান জেনেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন আমাদের প্রথম কাজ হলো প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করা। বছরের শেষ দিকে বাজেট ঘোষণার আগে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করব।”

জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য নিয়ে আবারও প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেই পথ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।”

আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ
সাক্ষাৎকারে আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়েও অবস্থান পরিষ্কার করেন বার্নহ্যাম।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, ২০২৯ সালের আগে আগাম জাতীয় নির্বাচনের কোনও পরিকল্পনা নেই।

তার ভাষায়, “আমি আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করছি। আমার মনে হয় না জনগণ এখন তা চায়।”

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের পরিস্থিতিকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা।

সূত্র: বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ