ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo যৌন হয়রানির অভিযোগ: আগাম জামিনের পর স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ জনকে খুন, পলাতক রাজকুমার Logo বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন Logo যুক্তরাষ্ট্রের চাপে লেবাননে অভিযান স্থগিত ইসরায়েলের Logo জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পণ্ড Logo ঢামেকের ৮০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, তুললেন সেলফি Logo ইসলামী ব্যাংকের ‘গ্রাহক সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত Logo চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে Logo শাহজালালের মাজারে চলছে দানবাক্সের টাকা গণনা Logo নিজ মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করলেন বাবা-মা, নেপথ্যে ‘একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক’ Logo শ্রেণীকক্ষ থেকে এশিয়ার শীর্ষ: ছোট্ট সামিনার বিশ্বজয়ের গল্প

বৃষ্টির পানিতে বেনাপোল বন্দরে তলিয়েছে কোটি টাকার আমদানি পণ্য

একদিনের বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন শেডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার পণ্য হাঁটুপানিতে ভাসছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা। অবশ্য বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় শত শত কোটি টাকার আমদানিকৃত মালামাল।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত থেকেই বিরামহীনভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এ অঞ্চলে। একটানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের ৩নং গেটের সামনে পাঁচটি শেডে পানিতে তলিয়েছে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে গেছে। এসব পানি পাওয়ার পাম্প দিয়ে বের করার চেষ্টা চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, ‘স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলে এলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কথা আমলে না নেওয়ায় প্রায় শতাধিক আমদানিকারক সব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

বীমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণও দেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। গত বছরের বর্ষার সময় কমিটির লোকজনের তৎপরতা ২/১ দিন দেখা গেলেও পরে এ নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি।’

বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান বলেন, ‘বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না।’

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে।

এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দরের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই দুর্দশা চললেও সরকারের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টির পানি পণ্যাগারে ঢুকে মালামাল ভিজে নষ্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক কাজি রতন বলেন, বৃষ্টিতে বেশকিছু শেডে পানিতে মালামাল ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলে সমস্যা সমাধান হওয়ার আশা করেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যৌন হয়রানির অভিযোগ: আগাম জামিনের পর স্ত্রী-সন্তানসহ ৬ জনকে খুন, পলাতক রাজকুমার

বৃষ্টির পানিতে বেনাপোল বন্দরে তলিয়েছে কোটি টাকার আমদানি পণ্য

আপডেট সময় ১১:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

একদিনের বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন শেডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার পণ্য হাঁটুপানিতে ভাসছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা। অবশ্য বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় শত শত কোটি টাকার আমদানিকৃত মালামাল।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত থেকেই বিরামহীনভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এ অঞ্চলে। একটানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের ৩নং গেটের সামনে পাঁচটি শেডে পানিতে তলিয়েছে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে গেছে। এসব পানি পাওয়ার পাম্প দিয়ে বের করার চেষ্টা চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, ‘স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলে এলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কথা আমলে না নেওয়ায় প্রায় শতাধিক আমদানিকারক সব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

বীমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণও দেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। গত বছরের বর্ষার সময় কমিটির লোকজনের তৎপরতা ২/১ দিন দেখা গেলেও পরে এ নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি।’

বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান বলেন, ‘বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না।’

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে।

এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দরের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই দুর্দশা চললেও সরকারের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টির পানি পণ্যাগারে ঢুকে মালামাল ভিজে নষ্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক কাজি রতন বলেন, বৃষ্টিতে বেশকিছু শেডে পানিতে মালামাল ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলে সমস্যা সমাধান হওয়ার আশা করেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ