শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই দিনে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল আন্দোলন

বাংলা৭১নিউজ, ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

আজ ৩ জুলাই। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের চলমান আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে।

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে চলমান এই আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই উত্তাল হয়ে ওঠে দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলো। এ দিন ময়মনসিংহে ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

আগের দিন শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থাকলেও এদিন অবরোধে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরাও। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ শুরু হয়।

এইদিন আন্দোলনকারীরা রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড় দেড় ঘণ্টার মতো অবরোধ করে রাখেন। দাবি আদায়ে বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এই কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে বের হওয়া মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দোয়েল চত্বর ও সুপ্রিম কোর্টের সামনে দিয়ে শাহবাগে এসে জমায়েত হয় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে। এরপর তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন। আন্দোলনকারীরা বিকেল ৫টা ১২ মিনিট পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা শাহবাগ মোড়ের সড়কে অবস্থান করেন।

শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে দাবির পক্ষে ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’; ‘আঠারোর পরিপত্র, পুনর্বহাল করতে হবে’; ‘কোটা প্রথা নিপাত যাক-মেধাবীরা মুক্তি পাক’; ‘ছাত্রসমাজ গড়বে দেশ, মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’; ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’; ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’; ‘হাইকোর্ট না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’; ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’; ‘আমার দেশ আমার মা, বৈষম্য মানি না’; ‘কোটা বৈষম্য দূর কর, নইলে বুকে গুলি কর’; ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। স্লোগানের ফাঁকে প্রতিবাদী গানও পরিবেশন করা হয়, পাশাপাশি চলে বক্তব্যও।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল জব্বার মোড়ে রেললাইন অবরোধ করেন। ওই সময় ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী মহুয়া কমিউটার ট্রেন আটকে রেখে বিক্ষোভ করেন তারা। প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তারা রেললাইন অবরোধ তুলে নেন। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে সমবেত হন এবং সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এদিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাফনের কাপড় পরে বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাদের কর্মসূচির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কের দুই পাশে কয়েকশ’ যানবাহন আটকা পড়ে।

৩ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করেন। বেলা পৌনে ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকায় অবরোধ শুরু হয়। চলে বেলা দেড়টা পর্যন্ত। চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ বহাল রাখার দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’ এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়াও সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে কোটাবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার গোল চত্বরে এসে সমবেশে মিলিত হয়।

৩ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পূর্বের পরিপত্র বহাল রেখে কমিশন গঠন করে কোটা সংস্কারের দাবিতে পদযাত্রা ও সমাবেশ করেন। বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে একটি মিছিল বের করা হয় এবং মিছিলটি ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন মডার্ন মোড় প্রদক্ষিণ করে ২ নম্বর গেটে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এদিন শাহবাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গত ৫ জুন হাইকোর্টের রায়ের পর থেকে আমাদের আন্দোলন চলমান। আমরা মাঝখানে আলটিমেটাম দিয়েছিলাম, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে আমাদের আবারও রাজপথে নেমে আসতে হয়েছে। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, আগামীকাল হাইকোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি হবে। আমরা আশা করবো, সেই শুনানি শিক্ষার্থীদের পক্ষে হবে। আমরা যে চার দফা দিয়েছি, তার প্রথম দফা যেন আগামীকালের মধ্যেই পূরণ করা হয়। প্রথম দফা শেষে আমাদের বাকি দফাগুলো যাতে পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হয়।’

পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আগামীকাল বেলা ১১টায় আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেব এবং যতক্ষণ না আমাদের পক্ষে রায় আসছে, আমাদের প্রথম দফা পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com