ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে গরু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। তবে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে ঈদুল আযহার সময় প্রকাশ্যে পশু কোরবানি বন্ধের দাবিতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
রায়ে বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণ রাজ্যজুড়ে গরুর উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতির স্বার্থে ১৯৭৬ সালে জারি করা সরকারি আদেশ কার্যকর করার জন্য কর্মকর্তা ও পুলিশকে নির্দেশ দেন।
তবে এবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিজয়ের সরকার অভিযোগ করেছে, রাজ্যে গরু জবাইসংক্রান্ত যে আইন বিদ্যমান রয়েছে, হাইকোর্টের দেওয়া রায় সেই আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা স্পেশাল লিভ পিটিশনে সরকার বলেছে, হাইকোর্টের নির্দেশ ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’-এর পরিপন্থি। ওই আইনে বলা রয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সি যেসব গরু কোনও কাজ করতে বা প্রজননে অক্ষম, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে শুধু সেই সব গরু বা বাছুর জবাই করা যায়।
আরও বেশ কয়েকটি আইনের উল্লেখ করে শীর্ষ আদালতে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের অভিযোগ, গরু জবাইয়ে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাজ্যের আইনসভার কাজে হস্তক্ষেপ করেছে হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সরকারি সিদ্ধান্ত মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। প্রধান বিরোধীদল ডিএমকে সাংবিধানিক বিধান রক্ষার জন্য রাজ্যের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও, বিজেপি তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতারা এর আগে মাদ্রাজ হাইকোর্টের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
বাংলা৭১নিউজ/জেএস