ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত করে বিদায় নেব : তথ্যমন্ত্রী Logo সীমান্তে ঢুকে পড়ল উত্তর কোরিয়ার সেনারা, গুলি ছুড়ে সতর্ক করল দক্ষিণ কোরিয়া Logo ‘মাদকাসক্ত’ ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় বাবা, ফটকে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু Logo বর্তমানে যে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট হচ্ছে, এর দায় সরকারের নয়: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব Logo নোবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, সাবেক উপাচার্যসহ ৫ জনকে দুদকে তলব Logo দুদকের মামলায় আসামি বেবিচকের দুই প্রকৌশলী, অথচ অনাপত্তিপত্রে নেই মামলার তথ্য Logo স্কুল নেই, চিকিৎসা নেই, নেটওয়ার্ক নেই, চলছে রাঙামাটির ৫ হাজার মানুষের জীবন Logo নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo ‘দামু’ পরিচালক রাজা সেন আর নেই Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্নটা অবান্তর

চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল না ফেরার দেশে

দেশের চক্ষুচিকিৎসা খাতে অনন্য অবদান রেখে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার (২৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (সিইআইটিসি) উপদেষ্টা ও সাবেক ম্যানেজিং ট্রাস্টি ছিলেন। দুই ছেলে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ শনিবার এশার নামাজের পর জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় এবং মিরসরাইয়ের কাঠাছড়ায় জোহরের নামাজের পর তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

চক্ষুচিকিৎসাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তার অবদান দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠা এবং দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ চক্ষু শিবির পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ মানুষের চোখের অপারেশন সম্পন্নে নেতৃত্ব দেন তিনি। একই সময়ে প্রায় আট লাখ শিক্ষার্থীর দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়।

একই বছর তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি), যা বর্তমানে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল নামে পরিচিত। পরে তিনি আন্তর্জাতিক মানের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালও প্রতিষ্ঠা করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি প্রতিষ্ঠা এবং অপটোমেট্রি শিক্ষার প্রসারেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

চক্ষুচিকিৎসায় অসামান্য অবদানের জন্য দেশে-বিদেশে তিনি অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেন। এর মধ্যে রয়েছে জার্মানির ‘অর্ডার অব মেরিট’, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের ‘লাইফ লং সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’, এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাকাডেমি অব অফথালমোলজির ‘ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ ও স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড, অনারারি ডক্টরেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বীকৃতি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের চেয়ারম্যান হিসেবে টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনী ‘প্লেজার অ্যান্ড পেইন’।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত করে বিদায় নেব : তথ্যমন্ত্রী

চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল না ফেরার দেশে

আপডেট সময় ০৫:১২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

দেশের চক্ষুচিকিৎসা খাতে অনন্য অবদান রেখে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার (২৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (সিইআইটিসি) উপদেষ্টা ও সাবেক ম্যানেজিং ট্রাস্টি ছিলেন। দুই ছেলে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ শনিবার এশার নামাজের পর জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় এবং মিরসরাইয়ের কাঠাছড়ায় জোহরের নামাজের পর তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

চক্ষুচিকিৎসাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তার অবদান দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠা এবং দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ চক্ষু শিবির পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ মানুষের চোখের অপারেশন সম্পন্নে নেতৃত্ব দেন তিনি। একই সময়ে প্রায় আট লাখ শিক্ষার্থীর দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়।

একই বছর তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি), যা বর্তমানে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল নামে পরিচিত। পরে তিনি আন্তর্জাতিক মানের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালও প্রতিষ্ঠা করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি প্রতিষ্ঠা এবং অপটোমেট্রি শিক্ষার প্রসারেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

চক্ষুচিকিৎসায় অসামান্য অবদানের জন্য দেশে-বিদেশে তিনি অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেন। এর মধ্যে রয়েছে জার্মানির ‘অর্ডার অব মেরিট’, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের ‘লাইফ লং সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’, এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাকাডেমি অব অফথালমোলজির ‘ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ ও স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড, অনারারি ডক্টরেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বীকৃতি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের চেয়ারম্যান হিসেবে টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনী ‘প্লেজার অ্যান্ড পেইন’।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ