শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সম্মিলিত উদ্যোগে টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব’ করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পণ্য পৌঁছানো যাবে : বাণিজ্যমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’, যা কিছু অর্জন তা দেশের মানুষের : সংসদে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর পররাষ্ট্রনীতির মানদণ্ড নিশ্চিত করেছে দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে : মির্জা ফখরুল চুক্তি হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, সংসদকে পাশ কাটিয়ে কিছু নয় প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া এবং চীন সফরের জন্য সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব

চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল না ফেরার দেশে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের চক্ষুচিকিৎসা খাতে অনন্য অবদান রেখে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার (২৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (সিইআইটিসি) উপদেষ্টা ও সাবেক ম্যানেজিং ট্রাস্টি ছিলেন। দুই ছেলে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ শনিবার এশার নামাজের পর জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় এবং মিরসরাইয়ের কাঠাছড়ায় জোহরের নামাজের পর তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

চক্ষুচিকিৎসাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তার অবদান দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠা এবং দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ চক্ষু শিবির পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ মানুষের চোখের অপারেশন সম্পন্নে নেতৃত্ব দেন তিনি। একই সময়ে প্রায় আট লাখ শিক্ষার্থীর দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়।

একই বছর তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি), যা বর্তমানে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল নামে পরিচিত। পরে তিনি আন্তর্জাতিক মানের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালও প্রতিষ্ঠা করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি প্রতিষ্ঠা এবং অপটোমেট্রি শিক্ষার প্রসারেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

চক্ষুচিকিৎসায় অসামান্য অবদানের জন্য দেশে-বিদেশে তিনি অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেন। এর মধ্যে রয়েছে জার্মানির ‘অর্ডার অব মেরিট’, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের ‘লাইফ লং সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’, এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাকাডেমি অব অফথালমোলজির ‘ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ ও স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড, অনারারি ডক্টরেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বীকৃতি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের চেয়ারম্যান হিসেবে টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনী ‘প্লেজার অ্যান্ড পেইন’।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com