শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন

১৯০০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায়

বাংলা৭১নিউজ, ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হওয়ার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৬৪ জনে। আহতের সংখ্যা ৯৭১ বলে রাষ্ট্রীয় টিভিতে জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্যানুযায়ী, ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। অর্থাৎ, ১২৬ বছরের মধ্যে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্পের সাক্ষী হল দেশটি।

এর আগে ১৯০০ সালের ২৯ অক্টোবরে ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, যা ইতিহাসে ‘সান নার্সিসো ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত।

স্থানীয় সময় ভোর সাড়েচার টার দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছিল। এর কেন্দ্রস্থল ছিল উপকূলীয় এলাকা এবং ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের কাছে ক্যারিওকো বেসিন অঞ্চলে। সেই ভূমিকম্পও কেড়ে নিয়েছিল শতাধিক মানুষের প্রাণ।

এতদিন ধরে এটিই ছিল ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প। এবারের জোড়া ভূমিকম্প এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগের ওই ভূমিকম্পের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, বুধবার আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ৩০টির বেশি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। দফায় দফায় এই পরাঘাতের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রেসিডেন্ট বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং বহু বাড়িঘরের বিশাল ধ্বংসস্তুপের কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকারীরা নিখোঁজ হওয়াদের এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর প্রাথমিকভাবে ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ ৩২ জনের মৃত্যু এবং ৭০০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল। কিন্তু সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধসে পড়া বহুতল ভবনগুলোর নিচে তল্লাশি চালিয়ে একের পর এক লাশ উদ্ধার করায় মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

রাজধানী কারাকাস ও এর উত্তরের রাজ্যগুলোতে বহু ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার।

এই ভূমিকম্পে কারাকাসের উত্তরের লা গুয়াইরা রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, “লা গুয়াইরা রাজ্য এখন সত্যিকারের এক ট্র্যাজেডির নাম। এটি এক দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।”

উপকূলীয় শহর কাটিয়া লা মার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৬ টা পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর এসেছে।

সরকারি ছুটির দিনে ভূমিকম্প হওয়ায় ভেনেজুয়েলার অনেক মানুষ বাসাতেই ছিলেন। সরকারি হিসাব বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ৭৭ লাখ নাগরিক।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেছেন, ‘‘ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল ও বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে ২০ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল গঠন করা হচ্ছে এবং অর্থমন্ত্রণালয় ও অর্থমন্ত্রীকে এই কর্মসূচি তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com