পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর তৃণমূল কংগ্রেসে যে ভাঙন ধরেছে, তাতে পুরো ভারতেই রাজনীতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। গুঞ্জন শুরু হয় এক হয়ে যেতে পারে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস। এর মধ্যেই বুধবার দিল্লিতে দীর্ঘ বৈঠকে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে সেই জল্পনা আরও তীব্র হয়।
তবে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল জানিয়েছেন, এরকম কোনো আলোচনাই হয়নি।
তিনি বলেন, ‘এগুলো ভিত্তিহীন গুজব। তৃণমূল ও কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে বৈঠকটিতে বিজেপি বিরোধিতার রাজনীতি ও জাতীয় বিষয়গুলো আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতারাও কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের এক হওয়ার খবরকে গুজব এবং ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কংগ্রেস নেতাদের একটা বড় অংশ মমতার কংগ্রেসে ফেরার তীব্র বিরোধিতা করছেন। তারা এই পদক্ষেপকে মেনে নিতে নারাজ।
মূলত, বিধানসভা নির্বাচন পরাজায়ের পরে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। বিদ্রোহ ঘোষণা করছেন একের পর এক বিধায়ক- সংসদ সদস্যরা। ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোদলীয় নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জীর হাত ধরে ৬৪ জন বিদ্রোহী বিধায়ক আলাদা তৃণমূল গড়ার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০জন সংসদ সদস্য বিজেপি নেতৃত্বধীন ক্ষমতাসীন জোট এনডিএকে সমর্থন করবেন বলেও দাবি করেছেন। এছাড়াও একে একে উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সংসদ সদস্যরা ইস্তফা দিচ্ছেন। সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবের পর বৃহস্পতিবার সকালে ইস্তফা দেন উত্তরবঙ্গের তৃণমূল সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক ও সদ্য এমপি হওয়া অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকও। এতে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল ৯ জনে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং রাজনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য মমতা কংগ্রেসের সঙ্গে একত্রীকরণ একটি কৌশল নিতে পারেন বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কারণ নির্বাচনে হারের পর তৃণমূলের একক ভোট ব্যাংক ভাঙনের মুখে পড়েছে। কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত ভোট ব্যাংক এবং তৃণমূলের অবশিষ্ট জনসমর্থন এক হলে তা রাজ্যে একটি শক্তিশালী বিকল্প শক্তি তৈরি করতে পারে। তবে আপাতত তা আর হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, ছাত্রাবস্থায় কংগ্রেস করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজীব গান্ধীর স্নেহভাজন ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে মন্ত্রীও ছিলেন। পরে কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধ বাধে। তৈরি হয় দূরত্ব। শেষে ১৯৯৮ সালে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তৈরি করেন তৃণমূল কংগ্রেস।
সূত্র: আনন্দবাজার, বিবিসি বাংলা
বাংলা৭১নিউজ/জেএস