শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
লক্ষ্মীপুরে মা ও দুই মেয়ে খুন: আহত আরেক মেয়ের মৃত্যু, পিটুনিতে সন্দেহভাজন যুবক নিহত ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিখোঁজ ১১ হাজার ছাড়াল শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা ৩০ শতাংশ চার মাসে দেশকে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে বেঁধেছে সরকার বাংলাদেশে সুইডিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১৬৪, আহত প্রায় এক হাজার গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ৯ বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা, প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা করলে কঠোর শাস্তি : শিক্ষামন্ত্রী বিমানবন্দরের বাইরে পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

রামেক হাসপাতাল তিন মাসে ৮৭১ শিশুর মৃত্যু!

রাজশাহী প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তিন মাসে মারা গেছে ৮৭১ শিশু। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন অন্তত ১০ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ৫২ শিশুর। রাজশাহী মেডিকেলে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সম্প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হামের উপসর্গ থাকলেও মৃত্যু হয়েছে অন্য ভাইরাস সংক্রমণে। তবে নির্দিষ্ট করে শনাক্ত করতে পারেননি তারা।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ব্যাকটেরিয়াগুলো মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্টস (যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর) বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্যানড্রাগ রেজিস্ট্যান্টস।

মানে সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকে তারা রেজিস্ট্যান্টস (প্রতিরোধি)। এর ফলে নিউমোনিয়া হচ্ছে। নিউমোনিয়া হয়ে মারা যাচ্ছে। কিন্তু এটার প্রাথমিক কারণ হাম। কিন্তু মারা যাচ্ছে নিউমোনিয়ায়।’

হাসপাতালে অধিকাংশ শিশু মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া। তাদের অনেককে ওয়ার্ডে চিকিৎসার পর আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। হামের উপসর্গ ধরা পড়লে নমুনা পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়।

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এ বছরের জানুয়ারিতে ভর্তি হওয়া ৩৭৩৫ শিশুর মধ্যে মারা গেছে ২৭৬ জন। ফেব্রুয়ারিতে ৪২৫৭ শিশুর মধ্যে মারা গেছে ২৯১ জন।

মার্চে ৪৫২২ শিশুর মধ্যে মারা গেছে ৩০৪ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে ৫২ শিশুর মৃত্যু হয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় ১২ হাজার ৫১৪ শিশুকে। এ সময়ে মারা গেছে ৮৭১ শিশু। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু অর্ধশতাধিক।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, ‘যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের কারও শরীরেই কিন্তু আমরা হামের জীবাণু শনাক্ত করতে পারিনি। এ কাজটি করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদল। এখানে আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তারা তাদের মতো করে স্যাম্পল গ্রহণ করছেন।  সেটি ঢাকায় পাঠাচ্ছেন।

সেখান থেকে যে রিপোর্ট আসছে সেটি আমাদের তারা জানিয়ে দিচ্ছেন।’ হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের শুরুতে ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে চালু করা হয় আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড। পুরো বিভাগে ৬৬ শিশু মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে আমাদের স্যাম্পলগুলো পাঠানো হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের তথ্যগুলো দিয়ে থাকি।’ এদিকে পরিস্থিতি অবনতির কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটটি বিভাগের প্রধানদের নিয়ে শিশুদের চিকিৎসায় গঠন করা হয়েছে মেডিকেল বোর্ড।

বাংলা৭১নিউজ/একেএএম

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com