ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী Logo বাংলাদেশি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবেন অমিত শাহ Logo অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সন্তোষজনক নয় : শিক্ষামন্ত্রী Logo রাজধানীতে তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের মামলায় ৫ আসামির রিমান্ড Logo ছানিপড়া রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিল জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন Logo টানা ২৫ মৌসুমে গোল করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড রোনালদোর Logo ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক Logo গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি তুরস্কের Logo জেনেভা ক্যাম্পের কথিত ‘মাদক সম্রাট’ সেলিম ৩ দিনের রিমান্ডে Logo এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু, বাড়ল এলএনজি সরবরাহ

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন হলে কমবে ১২০ কিমি পথ, সাশ্রয় ৪ ঘণ্টা

রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ হলে উত্তরাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০তম দিনের বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা নানা দিক দিয়ে ভোগান্তির মধ্যে আছি। বৈষম্যের শিকার হয়ে আছি। গোটা বাংলাদেশের মধ্যে উত্তরাঞ্চল নানা দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে।

আমরা যারা গোটা রংপুর বিভাগের বাসিন্দা আছি এবং বগুড়ার যারা আছেন, তারা যদি ঢাকার সঙ্গে রেলপথে যোগাযোগ করতে চান, তাহলে তাদের অতিরিক্ত প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ এবং অতিরিক্ত চার ঘণ্টা সময় রেলের মধ্যে থাকতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের দিকে রওনা করি, তাহলে সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত সরাসরি যেতে পারি না। আমাদের যদি বগুড়ায় যেতে হয়, তাহলে নওগাঁ, নাটোর ও পাবনা– এই তিন জেলা ঘুরে তারপরে বগুড়ায় যেতে হয়।

এই কারণে ঢাকা থেকে বগুড়ার রেলপথের দূরত্ব এখন প্রায় ৪০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। যদি বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত একটা সরাসরি রেললাইন থাকত, তাহলে এই দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার কমে আসত। এই দূরত্ব তখন হয়ে দাঁড়াত ২৮০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। আমরা যারা রংপুরের বাসিন্দা আছি, তাদের জন্য একই কথা সত্য।’

আখতার হোসেন বলেন, ‘ঢাকা থেকে রংপুরের এই রেলপথের দূরত্ব ৫৫০ কিলোমিটারের মতো। যদি বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি রেলপথ নির্মাণ করা হয়, তবে এর দৈর্ঘ্য ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটারের মতো হবে। এতে আমাদের রেলপথের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার কমে আসবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখানে আছেন।

তিনি বগুড়ার সন্তান; তিনি সেদিন বগুড়ায় গিয়ে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত এই সরাসরি রেললাইন নির্মাণের কথা বলে এসেছেন। আমরা প্রায় ২০ বছর যাবৎ উত্তরবঙ্গের বাসিন্দারা এই রেলপথ নির্মাণের কথা শুনে আসছি।

কিন্তু এখনো পর্যন্ত নানা বাস্তবতার কারণে আসার আলো দেখি নাই। আমরা শুনি যে, জমি অধিগ্রহণ চলছে; কিন্তু এটা কখন কন্ট্রাক্টে যাবে, কখন বাস্তবায়ন হবে– সেটা এখনো আমাদের জানার বাইরে।’

‘রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম জেলাসহ দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, জয়পুরহাট ও বগুড়া– পুরো উত্তরাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ যাদের ঢাকা আসা-যাওয়া করতে হয়, যদি বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত এই রেলপথটি নির্মাণ করা হয়, তবে তারা অনেক ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে।’

রংপুর-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমাদের উত্তরাঞ্চলের যে কৃষিপণ্যগুলো আছে, সেগুলো আমরা খুব সহজে ঢাকায় আনতে পারব। অতিরিক্ত ১২০ কিলোমিটার পথ চলতে হয় বলে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হয় এবং অতিরিক্ত ভাড়াও আমাদের দিতে হয়।

এই রেললাইন হলে আমাদের ভাড়া, দূরত্ব ও সময়– সবই কমে আসত। এই কারণে আমি মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আহ্বান রাখব– আমার যে উপজেলা দুইটি আছে, কাউনিয়া এবং পীরগাছা, এখানে দুইটি রেল স্টেশন রয়েছে। সেগুলোকে আধুনিকায়ন করে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি রেলপথ নির্মাণ করা হোক।’

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন হলে কমবে ১২০ কিমি পথ, সাশ্রয় ৪ ঘণ্টা

আপডেট সময় ০৭:৩৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ হলে উত্তরাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০তম দিনের বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা নানা দিক দিয়ে ভোগান্তির মধ্যে আছি। বৈষম্যের শিকার হয়ে আছি। গোটা বাংলাদেশের মধ্যে উত্তরাঞ্চল নানা দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে।

আমরা যারা গোটা রংপুর বিভাগের বাসিন্দা আছি এবং বগুড়ার যারা আছেন, তারা যদি ঢাকার সঙ্গে রেলপথে যোগাযোগ করতে চান, তাহলে তাদের অতিরিক্ত প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ এবং অতিরিক্ত চার ঘণ্টা সময় রেলের মধ্যে থাকতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের দিকে রওনা করি, তাহলে সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত সরাসরি যেতে পারি না। আমাদের যদি বগুড়ায় যেতে হয়, তাহলে নওগাঁ, নাটোর ও পাবনা– এই তিন জেলা ঘুরে তারপরে বগুড়ায় যেতে হয়।

এই কারণে ঢাকা থেকে বগুড়ার রেলপথের দূরত্ব এখন প্রায় ৪০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। যদি বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত একটা সরাসরি রেললাইন থাকত, তাহলে এই দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার কমে আসত। এই দূরত্ব তখন হয়ে দাঁড়াত ২৮০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। আমরা যারা রংপুরের বাসিন্দা আছি, তাদের জন্য একই কথা সত্য।’

আখতার হোসেন বলেন, ‘ঢাকা থেকে রংপুরের এই রেলপথের দূরত্ব ৫৫০ কিলোমিটারের মতো। যদি বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি রেলপথ নির্মাণ করা হয়, তবে এর দৈর্ঘ্য ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটারের মতো হবে। এতে আমাদের রেলপথের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার কমে আসবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখানে আছেন।

তিনি বগুড়ার সন্তান; তিনি সেদিন বগুড়ায় গিয়ে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত এই সরাসরি রেললাইন নির্মাণের কথা বলে এসেছেন। আমরা প্রায় ২০ বছর যাবৎ উত্তরবঙ্গের বাসিন্দারা এই রেলপথ নির্মাণের কথা শুনে আসছি।

কিন্তু এখনো পর্যন্ত নানা বাস্তবতার কারণে আসার আলো দেখি নাই। আমরা শুনি যে, জমি অধিগ্রহণ চলছে; কিন্তু এটা কখন কন্ট্রাক্টে যাবে, কখন বাস্তবায়ন হবে– সেটা এখনো আমাদের জানার বাইরে।’

‘রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম জেলাসহ দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, জয়পুরহাট ও বগুড়া– পুরো উত্তরাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ যাদের ঢাকা আসা-যাওয়া করতে হয়, যদি বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত এই রেলপথটি নির্মাণ করা হয়, তবে তারা অনেক ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে।’

রংপুর-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমাদের উত্তরাঞ্চলের যে কৃষিপণ্যগুলো আছে, সেগুলো আমরা খুব সহজে ঢাকায় আনতে পারব। অতিরিক্ত ১২০ কিলোমিটার পথ চলতে হয় বলে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হয় এবং অতিরিক্ত ভাড়াও আমাদের দিতে হয়।

এই রেললাইন হলে আমাদের ভাড়া, দূরত্ব ও সময়– সবই কমে আসত। এই কারণে আমি মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আহ্বান রাখব– আমার যে উপজেলা দুইটি আছে, কাউনিয়া এবং পীরগাছা, এখানে দুইটি রেল স্টেশন রয়েছে। সেগুলোকে আধুনিকায়ন করে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি রেলপথ নির্মাণ করা হোক।’

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ