শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
জ্বালানির কারণে রফতানি কমেছে—এমন ধারণা ভুল: পাটমন্ত্রী কলেজছাত্রের বানানো রেসিং কার চালালেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উৎসাহ এ বছরের ডিসেম্বরে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচনের আগে থেকেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে জামায়াত: মির্জা ফখরুল জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য: বায়োইকোনমি রেজল্যুশন গৃহীত বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ দশক পর বাবার কাটা খাল পুনঃখননে যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ইসলামাবাদে গিয়েছেন আরাগচি, পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক গ্যাসচালিত পরিবহনে বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা: সড়কমন্ত্রী মেধানির্ভর জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা নিয়ে ভয়ংকর সতর্কবার্তা

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলেছে এবং এটি বিশ্বজুড়ে আবহাওয়াবিদদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। চলতি বছরের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এল নিনো তৈরির প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই প্রাকৃতিক ঘটনা ভবিষ্যতে শক্তিশালী হয়ে বিরল সুপার এল নিনোতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে যা জনজীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। খবর নিউজউইকের। 

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) জানিয়েছে, মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এল নিনো তৈরির সম্ভাবনা ৬১ শতাংশ। এই প্রাকৃতিক ঘটনা ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। 

এল নিনো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলপ্রবাহের একটি বিশেষ পর্যায়। এর বিপরীতে থাকে লা নিনা যা শীতল জলপ্রবাহের সাথে যুক্ত। আবহাওয়াবিদরা এই দুই পর্যায় নিয়ে সর্বদা নজর রাখেন কারণ এটি বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

অ্যাকুওয়েদারের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস প্রদানকারী পল প্যাস্টেলক জানিয়েছেন, তাদের বিশ্লেষণে ১৫ শতাংশ শঙ্কা রয়েছে যে এটি ‘সুপার এল নিনো’তে পরিণত হবে। সাধারণত সমুদ্রের গড় তাপমাত্রা কয়েক মাস ধরে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকলে তাকে সুপার এল নিনো বলা হয়। এটি ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে রেকর্ড গড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন অ্যাকুওয়েদারের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ চ্যাড মেরিল। তিনি জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। শস্য উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় খরার ঝুঁকি কিছুটা কমবে। তবে টেক্সাস থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের আবহাওয়াবিদ বেন নোল জানান,আসন্ন অক্টোবরে মধ্য এবং উত্তর ভারতে খরা দেখা দিতে পারে। মৌসুমি বৃষ্টির ঘাটতি কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। 

দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অংশেও তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য এবং অস্ট্রেলিয়াতেও পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। বছরের শেষ দিকে ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইনের বিভিন্ন অংশে খরার ঝুঁকি তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

আটলান্টিক মহাসাগরের হারিকেন মৌসুমের ওপরেও এর প্রভাব পড়বে। সাধারণত জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত হারিকেন মৌসুম চলে। এল নিনোর কারণে আটলান্টিক অববাহিকায় ক্রান্তীয় ঝড় এবং হারিকেনের সংখ্যা কমে যেতে পারে। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পূর্বাভাস নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তাও কাজ করছে। ইউরোপীয় সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্ট একটি ব্লগে জানিয়েছে, বসন্তকালে এই পূর্বাভাস পুরোপুরি সঠিক হয় না। একে আবহাওয়াবিদরা বসন্তকালীন পূর্বাভাসের বাধা হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। 

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com