শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

এভারেস্ট জয়ের লক্ষ্যে জাতীয় পতাকা হাতে নুরুন্নাহার নিম্নির যাত্রা

বাংলা৭১নিউজ, ঢাকা
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্ট শিখরে বাংলাদেশের নারীর অভিযান উপলক্ষে পতাকা-প্রদান ও সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি এবং বিশিষ্ট নারী অধিকার কর্মী শিরীন পারভিন হক সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের স্পন্সর পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিত।

অনুষ্ঠানে পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি জাতীয় পতাকা গ্রহণ করেন এবং তার আসন্ন এভারেস্ট অভিযান সম্পর্কে বক্তব্য দেন।

তিনি জানান, আগামী ১১ এপ্রিল তিনি নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং প্রায় ৫০ দিনব্যাপী এভারেস্ট অভিযান শুরু করবেন। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে তিনি এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি ভারতে মৌলিক পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং ৬ হাজার ও ৭ হাজার মিটার উচ্চতার দুটি পর্বত সফলভাবে আরোহণ করেছেন।

তিনি বলেন, সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতায় নারীদের এগিয়ে যেতে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ ও শারীরিক সীমাবদ্ধতাও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে প্রয়োজনীয় সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ায় নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।

এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘদিনের কোনো পরিকল্পনা ছিল না; বরং ধীরে ধীরে পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই স্বপ্নের জন্ম। ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে অধ্যয়নকালে সীতাকুণ্ডে ফিল্ডওয়ার্কে গিয়ে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকেই পাহাড়ের প্রতি তার বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বান্দরবানের পাহাড়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন। পরবর্তীতে ভুটান, ভারতের সিকিম ও নেপালের পাহাড়ে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তাকে আরো উচ্চতায় যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। ২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্প সফরের পর তিনি পর্বতারোহণে আরো গুরুত্ব দেন। পরের বছর এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক করার অভিজ্ঞতা তাকে এ বিষয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি। একই সময়ে পর্বতারোহণে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি এবং ওই বছরই বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হই। এরপর নিয়মিত বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিয়ে গত বছর ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং হিমাল শৃঙ্গ জয় করি।

নুরুন্নাহার নিম্নি বলেন, এবার আমার লক্ষ্য বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করা। এই অভিযানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি পৃষ্ঠপোষকতা করছে, যা আমার জন্য বড় সহায়তা। বর্তমানে আমি এই ব্যাংকে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

আয়োজকরা জানান, এই এভারেস্ট অভিযান পরিকল্পনা করেছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব এবং এতে পৃষ্ঠপোষকতা করছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই অভিযান সফল হলে তা দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নারীদের সক্ষমতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

বক্তারা বলেন, এভারেস্ট অভিযানের জন্য ধাপে ধাপে উচ্চতার পর্বত আরোহণের অভিজ্ঞতা অপরিহার্য। নুরুন্নাহার নিম্নি ইতোমধ্যে ৬ হাজার ও ৭ হাজার মিটার উচ্চতার পর্বত জয় করেছেন, যা তাকে এই অভিযানের জন্য প্রস্তুত করেছে। পাশাপাশি নিজ কর্মস্থল থেকে পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়াও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৪ সাল থেকে তাদের অভিযানে নারী পর্বতারোহীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। এ পর্যন্ত ক্লাবটির একাধিক সদস্য এভারেস্ট অভিযানে অংশ নিয়েছেন এবং সফলতাও অর্জন করেছেন।

বক্তারা আরও জানান, নুরুন্নাহার নিম্নি নেপালের দক্ষিণ দিক দিয়ে এভারেস্ট আরোহণ করবেন। এই পথে কুম্বু আইসফল, ক্যাম্প-৩ এর আগে খাড়া বরফ দেয়াল এবং সামিটের আগে সাউথ সামিট ও হিলারি স্টেপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অংশ রয়েছে, যা অভিযানের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com