বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বগুড়ায় উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন সংস্কার চায় সরকার: তথ্যমন্ত্রী শ্রম বাজার নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর আলোচনা প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিন সংসদের সকালের অধিবেশনে ১২টি বিল পাস শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখাতে চাই, ভোটগ্রহণ মনিটর শেষে সিইসি অনলাইন-অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক দুই পুলিশের ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন ভারত থেকে আসবে ২০০ ব্রডগেজ কোচ: সংসদে রেলপথমন্ত্রী সব পড়লেন কিন্তু মূল আইনটাই পড়লেন না: হাসনাতকে আইনমন্ত্রী আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক নারী এমপি গ্রেফতার

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক দুই পুলিশের ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনই গ্রেফতার আছেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় ঘোষণার সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আব্দুস সোবহান তরফদার ও প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলুসহ আরও কয়েকজন। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ৬ জন গ্রেফতার আছেন। তারা হলেন—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। রায় ঘোষণা ঘিরে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। 

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার ২৪ আসামি বর্তমানে পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন—রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন, সাবেক নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া ও সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো.মাহাবুবার রহমান।

পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন—রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, আরপিএমপির সাবেক উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়।

এছাড়াও এ মামলায় চিকিৎসক সরোয়ার হোসেন চন্দন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান, সহসভাপতি ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসানও পলাতক আছেন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাকে হত্যার ভিডিও সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন আর পুলিশ তার বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনকে বেগবান করে।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। এর পরদিন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষ হয় গত ২৭ জানুয়ারি। এরপর গত ৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় রায়ের জন্য ৯ এপ্রিল তারিখ ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com