মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে যে বার্তা দিলেন মন্ত্রী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা গুরুতর আহত, আছেন অজ্ঞান অবস্থায় : রিপোর্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আজ, উদযাপনে নানা কর্মসূচি দুই বছরের টানাপোড়েন শেষে বরফ গলাতে দিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক, ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে শিক্ষকদের উৎসবভাতা নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : রাষ্ট্রপতি

সংসদে গুম অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশের সমালোচনা ব্যারিস্টার আরমানের

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

সংসদে দাঁড়িয়ে গুম বিষয়ে আবেগতাড়িত বক্তব্য উপস্থাপন করে গুম অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)।

তিনি বলেন, বিশেষ কমিটি কি করে এই আইন (অধ্যাদেশ) বাতিলের সুপারিশ পরামর্শ দেয়? দুজন তো গুমের শিকার ভুক্তভোগী, প্রধানমন্ত্রী নিজে টর্চারের শিকার। তাহলে কেমন করে এই গুমের আইন বাতিলের পরামর্শ দেয়। আমরা জানতে চাই।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যসূচিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ কথা বলেন তিনি।

ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) বলেন, আমি আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আছি একটি অন্ধকার ঘর থেকে ফিরে এসে। যেখানে আমার মত আরও শত শত মানুষকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের আর ফিরে আসার সৌভাগ্য তাদের হয়নি। তাদের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বিষয়ে মহান সংসদের আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

‘আমরা যারা গুমের শিকার। সেই অন্ধকার ঘরে আমরা মৃত্যুর প্রহর গুনছিলাম। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম এই অন্ধকার ঘরে আমাদের মৃত্যু হচ্ছে। হয়তো আমাদেরকে হত্যা করবেন হয়তো এখানেই আমাদের মৃত্যু হবে।

কথা বলার কেউ ছিল না আমাদের। কীটপতঙ্গ, পিঁপড়া, টিকটিকির সঙ্গে আমরা কথা বলতাম। বুঝতে পারতাম না বাইরে দিন না রাত। মনে হতো জীবন্ত কবর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মনে হতো মৃত্যু এর থেকে হাজারগুণ ভালো।

মনে হতো আজকে বুঝি আমাকে হত্যা করা হবে। এভাবেই মৃত্যুর প্রহর যখন গুনছিলাম তখন একদিন রাতে আমাকে যখন ট্রেনে হয়েছে সেখান থেকে বের করা হয়। তখনো আমি ধরে নিয়েছিলাম আজকে আমাকে হত্যা করা হচ্ছে তখন আমি সুরা ইয়াসিন পড়া শুরু করেছিলাম যাতে মৃত্যু সহজ হয়। পরে জানতে পারলাম কিছু বাচ্চা জীবন দিয়ে চোখ হারিয়ে পা হারিয়ে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করে আমাদেরকে আবার দুনিয়ার আলো দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, এই সংসদকে যদি বলতে হয় এই সংসদ হচ্ছে মজলুমদের মিলনমেলা। এখানে এমন একজন কেউ পাওয়া যাবে না যিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের জুলুমের শিকার হন নাই। 

গুমের শিকার, গুমের ভুক্তভোগী যারা ফিরে এসেছেন ও গুম পরিবারের পক্ষ থেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আমরা স্তম্ভিত হয়ে লক্ষ্য করছি, আমাদের সঙ্গে যা যা করা হয়েছে, সেই জুলুম যাতে বাংলার মাটিতে আর কখনো না হয়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য যে দুটি আইন করা হয়েছিল গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন এবং মানবাধিকার কমিশন আইন। বিশেষ কমিটি এই আইন দুটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। 

এপর্যায়ে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কেমন করে দুজন গুমের শিকার ভুক্তভোগী, যেই প্রধানমন্ত্রী নিজেও টর্চারের শিকার, তাহলে কেমন করে এই আইন দুটি বাতিলের পরামর্শ দেয়? আমরা জানতে চাই।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আমাদের আবেদন, যদি এই আইন সরকার পরিশোধিত করতে চায় তাহলে এই আইনটিকে আগে অনুমোদন দিয়ে আইনে রূপান্তর করুক তারপর প্রয়োজনে সংশোধনী বিল এনে সংশোধন করা হোক।

তিনি আরো বলেন, যদি সেটা না করা হয় তাহলে ১২ তারিখে, এই আইনটি বাতিল হয়ে গেলে ১৩ তারিখ থেকে গুমের কোনো সংজ্ঞা-ই থাকবে না।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com