শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১০ রাষ্ট্রপতির ৩ অপরাধে ভাষণ বর্জন করেছি : জামায়াত আমির ফ্যাসিবাদী শাসনে ইসির প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোটায় নেমেছিল : রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসররা যেন সংসদকে কলুষিত করতে না পারে : নাহিদ সংসদের দর্শকসারিতে ড. ইউনূস-জুবাইদা-জাইমা খালেদা জিয়া মানেই আপসহীন গণতন্ত্র আর সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী সংসদ হবে দেশের সব সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু : প্রধানমন্ত্রী সংসদ যেন চরিত্রহননের কেন্দ্র না হয়: বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সংসদে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

রমজানে জুমা: রহমত ও দোয়া কবুলের মহাসুযোগ

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

রমজানের বরকতময় দিনগুলোতে জুমার বিশেষ তাৎপর্য ও আমল নিয়ে আলোচনা করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা। তাঁদের মতে, বছরের শ্রেষ্ঠ মাসে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিনটি মুমিনের জন্য সওয়াব ও মাগফিরাত অর্জনের মহাসুযোগ।
পবিত্র রমজান মাস হলো ‘সায়্যিদুশ শুহুর’ (মাসসমূহের শ্রেষ্ঠ)। অন্যদিকে, জুমার দিন হচ্ছে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন বা ‘সায়্যিদুল আইয়াম’। যখন রহমতের মাসে জুমার দিন উপস্থিত হয়, তখন মুমিনের জীবনে ইবাদত ও সওয়াব অর্জনের এক অনন্য সন্ধিক্ষণ তৈরি হয়। রমজান ও জুমার এই মহামিলন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নেয়ামত।

আমলের বিশেষ মর্যাদা
রমজান মাসে যেকোনো নেক আমলের মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘বনি আদমের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু সিয়ামের বিষয়টি ভিন্ন। সিয়াম শুধুমাত্র আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৫১) এ থেকে বোঝা যায়, রোজাদারের ইবাদতের সওয়াব আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হবে বিশেষ ও সীমাহীন।

জুমার গুরুত্ব: কোরআনের নির্দেশনা
জুমার নামাজ সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে জুমার আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন- ‘হে মুমিনগণ, জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর ইবাদতের জন্য দ্রুত বেরিয়ে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বোঝ।’ (সুরা জুমা: ০৯)

আগেভাগে মসজিদে যাওয়ার ফজিলত
জুমার দিন আগেভাগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে প্রথম মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল; দ্বিতীয় জন গরু, তৃতীয় জন শিংবিশিষ্ট দুম্বা, চতুর্থ জন মুরগি এবং পঞ্চম জন একটি ডিম সদকা করার সওয়াব পায়। তবে ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসে গেলে ফেরেশতারা সওয়াব লেখার খাতা বন্ধ করে খুতবা শুনতে থাকেন।’ (সহিহ বুখারি: ৮৮১)

দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত
জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন বান্দার দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়। নবী কারিম (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘জুমার দিন দোয়া কবুল হওয়ার একটি সময় আছে। কোনো মুসলিম যদি সেই সময়টি পায় এবং নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করে, তবে আল্লাহ তা পূরণ করেন।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪০০) অধিকাংশ আলেমের মতে, এই সময়টি হলো আসরের পর থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত।

গুনাহ মাফের সুসংবাদ
জুমার আদব যথাযথ পালন করলে সপ্তাহব্যাপী গুনাহ মাফ হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল ও পবিত্রতা অর্জন করে সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যায় এবং ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় চুপ থাকে, তার এক জুমা থেকে অন্য জুমা পর্যন্ত সময়ের সব সগিরা (ছোট) গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়; যদি সে কবিরা (বড়) গুনাহ থেকে বিরত থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ৮৩৯)

জুমা ত্যাগের ভয়াবহতা
জুমার নামাজ বর্জন করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসুলুল্লাহ (স.) সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি অবহেলা করে টানা তিনটি জুমা বর্জন করল, সে গুরুতর গুনাহে লিপ্ত হলো এবং তার ঈমানি চেতনা বড় হুমকির মুখে পড়ল। (মুসনাদে আবু ইয়ালা: ২৭১২) এছাড়া অন্যান্য সহিহ হাদিসে জুমা ত্যাগকারীর অন্তরে মোহর মেরে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারিও এসেছে।

জুমার দিনের বিশেষ আদবগুলোর মধ্যে রয়েছে- মেসওয়াক করা, গোসল করা, পরিচ্ছন্ন পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার, সুরা কাহাফ পাঠ এবং বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে রমজানের জুমা আমাদের আত্মসমালোচনা ও আল্লাহর কাছে ফিরে আসার এক অনন্য সুযোগ। সিয়াম সাধনার এই ক্লান্তিকে জয় করে ইবাদত ও জিকিরে দিনটি অতিবাহিত করা মুমিনের কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদের রমজানের প্রতিটি জুমার ফজিলত পূর্ণরূপে হাসিল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com