ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

অমর একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে শুক্রবার রাত ১২টা ০১ মিনিটে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাত ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তারা কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রীসহ সেখানে উপস্থিত হাজারো মানুষ ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে শরিক হন। মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা জানান। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতারা শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পলাশ-শিমুল ফোটার এই দিনে বাঙালি জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেইসব বীর সন্তানদের, যারা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২ সালের এই দিনে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন। বাঙালির প্রাণের এই দিনে আজ সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে সেই কালজয়ী গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’

বায়ান্নর সেই উত্তাল দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে নেমে আসা ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশের নির্মম গুলিবর্ষণের মধ্য দিয়ে রচিত হয়েছিল এক অনন্য ইতিহাস। আজ সেই গৌরবোজ্জ্বল ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো। সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ নাম না জানা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মায়ের ভাষা। এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে, যা আজ সারা বিশ্বে পালন করা হচ্ছে।

একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। অমর একুশে উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি এবং আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এই দিনটি একই সঙ্গে শোক ও অপরিসীম গৌরবের। মাতৃভাষার জন্য প্রাণদানের এমন নজির বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে ভাষা শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার শপথ গ্রহণ করছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে আজ (শনিবার) সরকারি ছুটি। আজ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এছাড়া উত্তোলন করা হবে কালো পতাকা। দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আলাদা বাণী দিয়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

 

Tag :

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেট সময় ১২:৪৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অমর একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে শুক্রবার রাত ১২টা ০১ মিনিটে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাত ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তারা কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রীসহ সেখানে উপস্থিত হাজারো মানুষ ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে শরিক হন। মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা জানান। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতারা শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পলাশ-শিমুল ফোটার এই দিনে বাঙালি জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেইসব বীর সন্তানদের, যারা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২ সালের এই দিনে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন। বাঙালির প্রাণের এই দিনে আজ সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে সেই কালজয়ী গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’

বায়ান্নর সেই উত্তাল দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে নেমে আসা ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশের নির্মম গুলিবর্ষণের মধ্য দিয়ে রচিত হয়েছিল এক অনন্য ইতিহাস। আজ সেই গৌরবোজ্জ্বল ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো। সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ নাম না জানা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মায়ের ভাষা। এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে, যা আজ সারা বিশ্বে পালন করা হচ্ছে।

একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। অমর একুশে উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি এবং আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এই দিনটি একই সঙ্গে শোক ও অপরিসীম গৌরবের। মাতৃভাষার জন্য প্রাণদানের এমন নজির বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে ভাষা শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার শপথ গ্রহণ করছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে আজ (শনিবার) সরকারি ছুটি। আজ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এছাড়া উত্তোলন করা হবে কালো পতাকা। দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আলাদা বাণী দিয়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস