সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  ফের বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, নিহত ১, আহত ৩০ মিয়ানমার সীমান্তের ভূমিকম্পে কাঁপল চট্টগ্রাম অঞ্চল দরিদ্রদের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট বানাবে সরকার নতুন অর্থবছরই তিস্তা মহাপরিকল্পনার স্টাডি শেষ করে বাস্তবায়ন শুরু ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে ১ হাজার মানুষের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে সংসদ ভবনে শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্নভোজ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে জলবায়ু প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মুন্সিগঞ্জে দুর্বৃত্তের গুলিতে বিদ্ধ ব্যবসায়ী ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে হাজী আব্দুল কাইয়ুম দেওয়ান (৩৮) নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে গুয়াগাছিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় থাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাজী আব্দুল কাইয়ুম দেওয়ানকে প্রথমে ভাবেরচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢামেকের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসেক) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

আহত কাইয়ুম দেওয়ানের আপন ছোট ভাই মোঃ মাইন উদ্দিন দেওয়ান জানান,তার ভাই একজন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সফলতার সঙ্গে গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।

তিনি বলেন,সম্প্রতি গুয়াগাছিয়া এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ির জন্য বাড়িভাড়া নেওয়ার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। কিন্তু কেউ ভাড়া দিতে রাজি না হওয়ায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ও তার ভাই পুলিশ ফাঁড়ির জন্য সরকারকে বাড়িভাড়া দিতে সম্মত হন।

মাইন উদ্দিন দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পর ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদের হুমকি দিতে থাকে। তারা হুমকি দিয়ে বলেন, কেন কাইয়ুম দেওয়ান পুলিশ ফাঁড়ির জন্য ভাড়া দিয়েছেন। এ নিয়ে আগেও পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত এক ঘটনায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সঠিক তদন্তের নির্দেশ দিয়ে যৌথ বাহিনীর কাছে অভিযোগ দেন। এরপর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ধীরে ধীরে আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে ও গোপনে কাইয়ুম দেওয়ানকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

মাইন উদ্দিন দেওয়ান আরো বলেন, আজ শুক্রবার বিকেলে হাজী কাইয়ুম দেওয়ান একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যান। আসরের নামাজ আদায় করে গুয়াগাছিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বের হওয়ার পথে তাকে ঘিরে ধরে আওয়ামী লীগের দোসর ও স্থানীয় নেতা পিয়াস, শাহাদাত, নয়ন, রিয়াজ, নিরব, আকাশসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল। তারা ধারালো ছুরি, চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং পায়ে চারটি গুলি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দখল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলেও তারা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে।

মাইন উদ্দিন দেওয়ান আরও দাবি করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও চাঁদাবাজিসহ মোট ৪৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি হত্যা মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব বিষয় র‌্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কাছেও আলোচিত বলে দাবি করে ভুক্তভোগীর পরিবার।

তিনি বলেন, এর আগেও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তার ভাই এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই ঘটনার জের ধরেই মূলত এই হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়ির জন্য ভাড়া দেওয়াই ছিল হামলার প্রধান কারণ বলে পরিবারের অভিযোগ।

পরিবার আরও জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রই এই চক্র ব্যবহার করে আসছিল। এরই মধ্যে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং চারজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। তবে বাকি সদস্যরা এখনও পলাতক থাকায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের কাছে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ ফারুক। তিনি জানান, আজ সন্ধার দিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। বর্তমানে জরুরি বিভাগের ঢামেকের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসেক) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টির সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/একেএম

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com