মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিস্ট সরকার যেন মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতে না পারে, বিনা বিচারে হত্যা করতে না পারে—সে বিষয়গুলো সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা যাবে।
জনগণের মতামতের ঊর্ধ্বে কিছু নেই। কারণ, রাষ্ট্র জনগণের। রাষ্ট্রের চাবিকাঠি হাতে নেওয়ার যে সুযোগ এসেছে, তা যেন আমরা হেলায় হারিয়ে না ফেলি। সবাই মিলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে এই উদ্যোগকে সফল করতে হবে। আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতেই আমরা মাঠে নেমেছি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বগুড়া সদরের ফাঁপোড় পশ্চিমপাড়া মাঠে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিবিষয়ক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ৮৩৬ জন মানুষকে হত্যা করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার। বিগত ১৬ বছরে বহু মানুষকে গুম করেছে, খুন করেছে, ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করেছে। একইসঙ্গে সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। বৈষম্যের সমাজ গঠন করা হয়েছিল ওই সময়। এই প্রেক্ষাপটে জুলাই অভ্যুত্থানটি সংগঠিত হয় ছাত্রদের নেতৃত্বে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন একটি সরকার গঠন
করা হয়েছিল। সেই সরকারের সঙ্গে দেশের সকল রাজনৈতিক দল বসে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি জুলাই সদন গঠন করা হয়েছে। জুলাই সনদের কিছু কিছু বিষয় নিয়ে জুলাই সনদের প্রেক্ষিতে আজ গণভোটের আয়োজন। এবারের নির্বাচনে আপনারা দুটি ভোট দেবেন। একটি হলো গণভোট, আর অন্যটি হলো যে রাজনৈতিক দলকে আপনি সমর্থন করেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সেখানে ভোট দেবেন।
উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু ২০২৪ সালের লড়াই ছিল নিজের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই। একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে তরুণরা খালি হাতে রাস্তায় নেমেছে। বাবার বন্দুকের সামনে ছেলেরা বুক পেতে দিয়েছে। পৃথিবীতে খুব কম জাতি আছে, যারা এ ধরনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ পর্যায়ে এসেছে। এই অর্জনকে আমরা নিরঙ্কুশ করতে চাই ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। এ সময় জেলা পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন, বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াজেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফা মঞ্জুর, জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মুহা. মাহফুজার রহমানসহ জেলা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।