ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ৬ মাস পূর্তি, গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা Logo ১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির Logo ঘুমের মধ্যেই মারা গেলেন ২৭ বছর বয়সী অভিনেত্রী Logo দেশের সব জেলা প্রশাসকের জন্য ১৪ নির্দেশনা Logo ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ Logo ফ্যাসিস্ট আমলে শিক্ষাব্যবস্থায় চরম ধস নেমেছিল : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী Logo ওমরাহ ভিসা থাকলেও যাওয়া যাবে না সৌদি, মানতে হবে শর্ত Logo গণপরিবহনে নারীদের জন্য সুখবর Logo মৎস্য খাতে অবদানের জন্য ১৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত ও ৭৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে কোরদোবা শহরের আদামুজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তদন্ত শেষ হতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় রেল নেটওয়ার্ক অপারেটর আদিফ জানায়, মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি দ্রুতগামী ট্রেন আদামুজ এলাকার কাছে লাইনচ্যুত হয়ে পাশের আরেকটি ট্র্যাকে উঠে যায়। এরপর সেটি বিপরীত দিক থেকে আসা মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।

বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও জানিয়েছে, মালাগা থেকে যাত্রা করা যে ট্রেনটি প্রথমে লাইনচ্যুত হয়, তাতে প্রায় ৩০০ যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে পরিচালিত অন্য ট্রেনটিতে প্রায় ১০০ যাত্রী ছিলেন।

রয়টার্সকে ইতালীয় রেল কোম্পানি ফেরোভিয়ে দেলো স্তাতোর এক মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনটি ছিল ফ্রেচ্চিয়া ১০০০ মডেলের, যা প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার (প্রায় ২৫০ মাইল) গতিতে চলতে পারে।

আন্দালুসিয়ার জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে মোট অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানান, ট্রেনের প্যাঁচানো ধ্বংসাবশেষের কারণে জীবিত যাত্রী ও মৃতদেহ উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

করদোবার ফায়ার সার্ভিস প্রধান ফ্রান্সিসকো কারমোনা স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিইকে বলেন, কখনো কখনো কাউকে জীবিত অবস্থায় পৌঁছাতে আমাদের একজন মৃত ব্যক্তিকেও সরাতে হয়েছে। এটি খুবই কঠিন ও জটিল কাজ।

আদিফ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে মালাগা ছাড়ার প্রায় ১০ মিনিট পরই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ও আহতদের স্বজনদের জন্য মাদ্রিদের আতুচা, সেভিয়া, কর্দোবা, মালাগা ও হুয়েলভা স্টেশনে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে সব রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ও সোমবারও তা বন্ধ থাকবে। প্রভাবিত যাত্রীদের জন্য রাতভর স্টেশনগুলো খোলা রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বলেন, ঘটনাটি ‘অত্যন্ত অদ্ভুত’, কারণ ট্রেনটি একটি সোজা রেলপথে লাইনচ্যুত হয়। ওই রেলপথটি গত বছরের মে মাসে সংস্কার করা হয়েছিল।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, স্পেন ‘গভীর বেদনার একটি রাত’ পার করছে।

আদামুজের মেয়র রাফায়েল মোরেনো দুর্ঘটনাস্থলে প্রথম পৌঁছানো ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘দুঃস্বপ্নের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন।

স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ ও রানি লেতিসিয়া জানিয়েছেন, তারা ‘গভীর উদ্বেগের সঙ্গে’ দুর্ঘটনার খবর অনুসরণ করছেন। রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে এক্সে জানানো হয়,আমরা নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

এদিকে, এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েনও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাক্রোঁ লেখেন, আমার চিন্তা নিহতদের, তাদের পরিবার ও পুরো স্পেনের মানুষের সঙ্গে। ফ্রান্স আপনাদের পাশে আছে।

২০১৩ সালে উত্তর-পশ্চিম স্পেনের গ্যালিসিয়ায় হাইস্পিড ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৮০ জন নিহত ও ১৪০ জন আহত হয়েছিলেন।

সূত্র: বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/এএস

Tag :

৬ মাস পূর্তি, গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১

আপডেট সময় ১১:১০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত ও ৭৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে কোরদোবা শহরের আদামুজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। তদন্ত শেষ হতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় রেল নেটওয়ার্ক অপারেটর আদিফ জানায়, মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি দ্রুতগামী ট্রেন আদামুজ এলাকার কাছে লাইনচ্যুত হয়ে পাশের আরেকটি ট্র্যাকে উঠে যায়। এরপর সেটি বিপরীত দিক থেকে আসা মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।

বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও জানিয়েছে, মালাগা থেকে যাত্রা করা যে ট্রেনটি প্রথমে লাইনচ্যুত হয়, তাতে প্রায় ৩০০ যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে পরিচালিত অন্য ট্রেনটিতে প্রায় ১০০ যাত্রী ছিলেন।

রয়টার্সকে ইতালীয় রেল কোম্পানি ফেরোভিয়ে দেলো স্তাতোর এক মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনটি ছিল ফ্রেচ্চিয়া ১০০০ মডেলের, যা প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার (প্রায় ২৫০ মাইল) গতিতে চলতে পারে।

আন্দালুসিয়ার জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে মোট অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানান, ট্রেনের প্যাঁচানো ধ্বংসাবশেষের কারণে জীবিত যাত্রী ও মৃতদেহ উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

করদোবার ফায়ার সার্ভিস প্রধান ফ্রান্সিসকো কারমোনা স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিইকে বলেন, কখনো কখনো কাউকে জীবিত অবস্থায় পৌঁছাতে আমাদের একজন মৃত ব্যক্তিকেও সরাতে হয়েছে। এটি খুবই কঠিন ও জটিল কাজ।

আদিফ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে মালাগা ছাড়ার প্রায় ১০ মিনিট পরই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ও আহতদের স্বজনদের জন্য মাদ্রিদের আতুচা, সেভিয়া, কর্দোবা, মালাগা ও হুয়েলভা স্টেশনে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে সব রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ও সোমবারও তা বন্ধ থাকবে। প্রভাবিত যাত্রীদের জন্য রাতভর স্টেশনগুলো খোলা রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বলেন, ঘটনাটি ‘অত্যন্ত অদ্ভুত’, কারণ ট্রেনটি একটি সোজা রেলপথে লাইনচ্যুত হয়। ওই রেলপথটি গত বছরের মে মাসে সংস্কার করা হয়েছিল।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, স্পেন ‘গভীর বেদনার একটি রাত’ পার করছে।

আদামুজের মেয়র রাফায়েল মোরেনো দুর্ঘটনাস্থলে প্রথম পৌঁছানো ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘দুঃস্বপ্নের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন।

স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ ও রানি লেতিসিয়া জানিয়েছেন, তারা ‘গভীর উদ্বেগের সঙ্গে’ দুর্ঘটনার খবর অনুসরণ করছেন। রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে এক্সে জানানো হয়,আমরা নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।

এদিকে, এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েনও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাক্রোঁ লেখেন, আমার চিন্তা নিহতদের, তাদের পরিবার ও পুরো স্পেনের মানুষের সঙ্গে। ফ্রান্স আপনাদের পাশে আছে।

২০১৩ সালে উত্তর-পশ্চিম স্পেনের গ্যালিসিয়ায় হাইস্পিড ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৮০ জন নিহত ও ১৪০ জন আহত হয়েছিলেন।

সূত্র: বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/এএস