ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী Logo বাংলাদেশি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবেন অমিত শাহ Logo অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সন্তোষজনক নয় : শিক্ষামন্ত্রী Logo রাজধানীতে তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের মামলায় ৫ আসামির রিমান্ড Logo ছানিপড়া রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিল জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন Logo টানা ২৫ মৌসুমে গোল করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড রোনালদোর Logo ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক Logo গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি তুরস্কের Logo জেনেভা ক্যাম্পের কথিত ‘মাদক সম্রাট’ সেলিম ৩ দিনের রিমান্ডে Logo এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু, বাড়ল এলএনজি সরবরাহ

ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক, তবে ‘অস্বাভাবিক’ নয় : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের বিষয়টি দুঃখজনক হিসেবে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে এটা ‘অস্বাভাবিক’ নয় বলেও মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তৌহিদ হোসেন বলেন, আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় না। অনেকগুলো দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। কোন দেশগুলো আছে? যাদের ইমিগ্রেশন নিয়ে প্রবলেম আছে। আপনারা আমেরিকানদের কৌশল দেখেছেন, যারা ওখানে ওদের সোশ্যাল সিস্টেম থেকে পয়সা নেয় তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক।

তিনি বলেন, তাহলে তারা যদি কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সেটার মধ্যে বাংলাদেশ থাকবে, এটা আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। অবশ্যই দুঃখজনক। অবশ্যই কষ্টকর আমাদের জন্য। এটা অস্বাভাবিক না। এটা যদি সবাই গত এক বছরে যেত তাহলে আমি বলতাম যে, আমরা দায়ী। সমস্যাটা হচ্ছে, যদি এক বছরে হতো আমি বলতাম এই সরকারের কিছু দায়দায়িত্ব আছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই পদ্ধতি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কাজেই দায়দায়িত্ব যদি আপনি ধরেন পলিসিগতভাবে কারও ওপর থাকে, সেটা হলো-পূর্ববর্তী সব সরকারের আছে। সেটাকে আমরা পরিবর্তন করতে পারি নাই, পরিবর্তন করা সম্ভব না। কারণ মানুষের এই নড়াচড়া করার সাধ্য এই সরকারের নাই, কোনো সরকারেই ছিল না।

এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়মতি অভিবাসন নীতির কথা তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, পলিসির দিক থেকে আমি বলতে পারি, প্রথম দিন থেকে আমরা কিন্তু অনিয়মতি অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি।

একমাত্র সমাধান হবে যদি আমরা অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করতে পারি। আমাদের এখনো পত্রপত্রিকার খবরে দেখা যাচ্ছে, কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে মারা গেছে অথবা হাবুডুবু খেয়ে সে উদ্ধার হয়ে এসেছে। সে একজন ভিকটিম, তার প্রতি সব ধরনের সিমপ্যাথি। পাশাপাশি কিন্তু আইন ভঙ্গ হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রামের যে ছেলেটি এখান থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে কেনিয়া যায়, তার তো আসলে কেনিয়াতে-তুরস্কে যাওয়ার সামর্থ্য নাই। এটা আমরা কেন থামাতে পারি না? এটা আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত থামাতে না পারবো ততক্ষণ ভূমধ্যসাগরে মানুষ মরতে থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে গত মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮ দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। শুরুতে গত বছরের আগস্টে ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশের তালিকায় ছয়টি দেশের নাম যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তারা আরও সাতটি দেশের নাম এই তালিকায় তোলে। এরপর মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম যোগ করল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর জন্য (কয়েকটি ছাড়া) এ বন্ডের শর্ত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

ভিসা বন্ড আরোপ বন্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা-জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটা মাত্র হয়েছে। আমরা সাধারণ পদ্ধতিতে আমরা যাব। চেষ্টা করব যেন এটা থেকে আমাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বাংলা৭১নিউজ/একেএম

Tag :

অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী

ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক, তবে ‘অস্বাভাবিক’ নয় : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৫:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের বিষয়টি দুঃখজনক হিসেবে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে এটা ‘অস্বাভাবিক’ নয় বলেও মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তৌহিদ হোসেন বলেন, আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় না। অনেকগুলো দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। কোন দেশগুলো আছে? যাদের ইমিগ্রেশন নিয়ে প্রবলেম আছে। আপনারা আমেরিকানদের কৌশল দেখেছেন, যারা ওখানে ওদের সোশ্যাল সিস্টেম থেকে পয়সা নেয় তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক।

তিনি বলেন, তাহলে তারা যদি কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সেটার মধ্যে বাংলাদেশ থাকবে, এটা আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। অবশ্যই দুঃখজনক। অবশ্যই কষ্টকর আমাদের জন্য। এটা অস্বাভাবিক না। এটা যদি সবাই গত এক বছরে যেত তাহলে আমি বলতাম যে, আমরা দায়ী। সমস্যাটা হচ্ছে, যদি এক বছরে হতো আমি বলতাম এই সরকারের কিছু দায়দায়িত্ব আছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই পদ্ধতি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কাজেই দায়দায়িত্ব যদি আপনি ধরেন পলিসিগতভাবে কারও ওপর থাকে, সেটা হলো-পূর্ববর্তী সব সরকারের আছে। সেটাকে আমরা পরিবর্তন করতে পারি নাই, পরিবর্তন করা সম্ভব না। কারণ মানুষের এই নড়াচড়া করার সাধ্য এই সরকারের নাই, কোনো সরকারেই ছিল না।

এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়মতি অভিবাসন নীতির কথা তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, পলিসির দিক থেকে আমি বলতে পারি, প্রথম দিন থেকে আমরা কিন্তু অনিয়মতি অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি।

একমাত্র সমাধান হবে যদি আমরা অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করতে পারি। আমাদের এখনো পত্রপত্রিকার খবরে দেখা যাচ্ছে, কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে মারা গেছে অথবা হাবুডুবু খেয়ে সে উদ্ধার হয়ে এসেছে। সে একজন ভিকটিম, তার প্রতি সব ধরনের সিমপ্যাথি। পাশাপাশি কিন্তু আইন ভঙ্গ হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রামের যে ছেলেটি এখান থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে কেনিয়া যায়, তার তো আসলে কেনিয়াতে-তুরস্কে যাওয়ার সামর্থ্য নাই। এটা আমরা কেন থামাতে পারি না? এটা আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত থামাতে না পারবো ততক্ষণ ভূমধ্যসাগরে মানুষ মরতে থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে গত মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮ দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। শুরুতে গত বছরের আগস্টে ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশের তালিকায় ছয়টি দেশের নাম যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তারা আরও সাতটি দেশের নাম এই তালিকায় তোলে। এরপর মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম যোগ করল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর জন্য (কয়েকটি ছাড়া) এ বন্ডের শর্ত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

ভিসা বন্ড আরোপ বন্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা-জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটা মাত্র হয়েছে। আমরা সাধারণ পদ্ধতিতে আমরা যাব। চেষ্টা করব যেন এটা থেকে আমাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বাংলা৭১নিউজ/একেএম