
ফিলিপাইনের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মেয়নে যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্ন্যুৎপাত শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পন সংস্থা (ফিভোলকস)। মঙ্গলবার(৬ জানুয়ারি) থেকে আগ্নেয়গিরিটির জ্বালামুখ থেকে লাভা নির্গত হতে দেখা যাওয়ায় সতর্কবার্তার মাত্রা ২ থেকে বাড়িয়ে ৩ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এখান থেকে লাভার প্রস্রবণ এবং উচ্চ তাপমাত্রার গ্যাস ও ছাইয়ের প্রবল প্রবাহ বা ‘পাইরোক্লাস্টিক ডেনসিটি কারেন্টস’ (পিডিসি) শুরু হতে পারে। খবর বিজনেস ওয়ার্ল্ডের।
ফিভোলকস-এর অগ্ন্যুৎপাত পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান মারিয়া আন্তোনিয়া বর্ণাস জানান, বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৩ সালের অগ্ন্যুৎপাতের মতো হতে পারে, যা দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলেছিল। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এবার লাভার ধীর গতির প্রবাহের পাশাপাশি বড় ধরনের বিস্ফোরণের ছোট একটি সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত জুন ২০২৪ থেকে আগ্নেয়গিরিটির ভূ-গর্ভস্থ কাঠামোতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা বড় কোনো বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরিটির চারপাশের ৬ কিলোমিটার এলাকাকে ‘স্থায়ী বিপদ অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সাধারণ মানুষকে সেখান থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে খসে পড়া উত্তপ্ত শিলাখণ্ড এবং বাতাসের চেয়ে দ্রুত গতিতে বয়ে আসা বিষাক্ত গ্যাস প্রাণহানির কারণ হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে অন্তত ১৩১টি শিলাধস এবং পাঁচটি শক্তিশালী গ্যাস প্রবাহের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন ৭০২ টন সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত হচ্ছে, যা আগ্নেয়গিরিটির ভেতরে থাকা প্রচণ্ড চাপের বহিঃপ্রকাশ।
ফিলিপাইন মূলত প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত, যা বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। মাউন্ট মেয়ন গত চার শতাব্দীতে ৫০ বারেরও বেশি বিস্ফোরিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮১৪ সালের অগ্ন্যুৎপাত ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ, যাতে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সতর্কবার্তার মাত্রা ৪-এ উন্নীত করা হতে পারে। ভারি বৃষ্টিপাত হলে আগ্নেয়গিরির ছাই ও কাদা মিশে ‘লাহার’ বা উত্তপ্ত কাদার স্রোত তৈরির ঝুঁকি থাকায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস