ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জাতিসংঘ সদর দপ্তরে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক Logo জাতিসংঘের আস্থা পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আহ্বান খলিলুর রহমানের Logo শচীনকে ছাড়িয়ে রুটের নতুন ইতিহাস Logo স্ত্রী পাশে থাকা সত্ত্বেও ম্যানেজারের ওড়নায় মুখ মুছলেন শাহরুখ, ভিডিও ভাইরাল Logo শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ Logo তারেক রহমানের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের বৈঠক Logo বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক Logo নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী আসনের প্রস্তাব জাতিসংঘ মহাসচিবের Logo জাতিসংঘে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় ওয়াকআউট করল ইরান Logo জাতিসংঘের ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালী বন্ধ, শুরুতেই আক্রমণের সিদ্ধান্ত: ইরানের রণকৌশলে আমূল পরিবর্তন?

ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নীতিতে আমূল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের কৌশলগত ধৈর্য এবং নিয়ন্ত্রিত পাল্টা হামলার নীতি ত্যাগ করে তেহরান এখন আরও কঠোর ও সরাসরি সংঘাতের পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে গঠিত ডিফেন্স কাউন্সিল স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা এখন আর কেবল আক্রান্ত হওয়ার পর পাল্টা হামলার অপেক্ষায় বসে থাকবে না। ইরানের নতুন সামরিক সমীকরণে এখন থেকে শত্রুপক্ষের যেকোনো সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির লক্ষণ দেখলেই তারা আগেভাগে আঘাত হানার করার কৌশল গ্রহণ করেছে।

ইরানের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি আচরণের বিপরীতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখানোর দিন শেষ হয়ে এসেছে। গত বছরগুলোতে ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সময় ইরান মূলত জানমালের ক্ষতি এড়িয়ে সামরিক স্থাপনাকে প্রাধান্য দিলেও এখন থেকে সেই ধারা বদলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। 

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানির সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি থেকে এটি স্পষ্ট যে, ভবিষ্যতে মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে প্রথম লক্ষ্যবস্তু হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা আমেরিকান সেনারা। লারিজানি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আমেরিকার জনগণের উচিত তাদের সেনাদের নিরাপত্তার কথা ভাবা। কারণ, ট্রাম্পের হঠকারী সিদ্ধান্তের চড়া মূল্য দিতে হতে পারে তাদেরই।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন অসংকুচিত বা লাগামহীন রণকৌশল মূলত ট্রাম্প প্রশাসনকে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে ফেলার একটি ছক। ইরান ধারণা করছে, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের পর নতুন করে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি ঘটলে তা আমেরিকার ভেতরে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামাতে পারে। 

একইসঙ্গে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও তেহরানের হাতে বড় অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। এই জলপথ দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও মুদ্রাস্ফীতি যে পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা সামাল দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে। সব মিলিয়ে ইরান এখন এমন এক চূড়ান্ত লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছে যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন আগ্রাসনকে চিরতরে থামিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএকে

Tag :

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

হরমুজ প্রণালী বন্ধ, শুরুতেই আক্রমণের সিদ্ধান্ত: ইরানের রণকৌশলে আমূল পরিবর্তন?

আপডেট সময় ০৬:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নীতিতে আমূল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের কৌশলগত ধৈর্য এবং নিয়ন্ত্রিত পাল্টা হামলার নীতি ত্যাগ করে তেহরান এখন আরও কঠোর ও সরাসরি সংঘাতের পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে গঠিত ডিফেন্স কাউন্সিল স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা এখন আর কেবল আক্রান্ত হওয়ার পর পাল্টা হামলার অপেক্ষায় বসে থাকবে না। ইরানের নতুন সামরিক সমীকরণে এখন থেকে শত্রুপক্ষের যেকোনো সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির লক্ষণ দেখলেই তারা আগেভাগে আঘাত হানার করার কৌশল গ্রহণ করেছে।

ইরানের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি আচরণের বিপরীতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখানোর দিন শেষ হয়ে এসেছে। গত বছরগুলোতে ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সময় ইরান মূলত জানমালের ক্ষতি এড়িয়ে সামরিক স্থাপনাকে প্রাধান্য দিলেও এখন থেকে সেই ধারা বদলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। 

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানির সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি থেকে এটি স্পষ্ট যে, ভবিষ্যতে মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে প্রথম লক্ষ্যবস্তু হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা আমেরিকান সেনারা। লারিজানি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আমেরিকার জনগণের উচিত তাদের সেনাদের নিরাপত্তার কথা ভাবা। কারণ, ট্রাম্পের হঠকারী সিদ্ধান্তের চড়া মূল্য দিতে হতে পারে তাদেরই।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন অসংকুচিত বা লাগামহীন রণকৌশল মূলত ট্রাম্প প্রশাসনকে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে ফেলার একটি ছক। ইরান ধারণা করছে, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের পর নতুন করে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি ঘটলে তা আমেরিকার ভেতরে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামাতে পারে। 

একইসঙ্গে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও তেহরানের হাতে বড় অস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। এই জলপথ দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও মুদ্রাস্ফীতি যে পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা সামাল দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে। সব মিলিয়ে ইরান এখন এমন এক চূড়ান্ত লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছে যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন আগ্রাসনকে চিরতরে থামিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএকে