হিমালয় অঞ্চলের দেশ নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১।
শুক্রবার পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই এবং সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
রাত ৩টার কিছু পরে দেশের উত্তরাঞ্চলেও কম্পন অনুভূত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পঞ্চগড় থেকে জানিয়েছেন সেখানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
পঞ্চগড় জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ বলেন, নেপালে ভোররাত ২টা ৫৫ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে পঞ্চগড়ও কেঁপেছে। তবে এখানে রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। এটি ছিল মাঝারি। এর উৎপত্তিস্থল হতে দূরত্ব ছিল ৩৪৬ কিলোমিটার।
আব্দুল মজিদ, বাদশা, রাজুসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, রাতে ভূমিকম্প হয়েছে টের পেয়েছি। বিশেষ করে পঞ্চগড় নেপালের নিকটবর্তী অঞ্চল হওয়ায় আঘাত হানা ভূমিকম্পে কেঁপেছে এ অঞ্চলটিও।
তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালে ভূমিকম্প সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া নেপাল বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। যার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি সবসময় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকে।
নেপালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানী কাঠমান্ডু এবং পোখারা শহরের মধ্যবর্তী স্থানে রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী এক ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটিতে অন্তত ৮ হাজার ৯৬৪ জন নিহত এবং প্রায় ২২ হাজার মানুষ আহত হন।
কেঁপে ওঠে ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন জায়গায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৮ মিনিটে পাঁচ সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পন জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হয়। তবে এ জেলায় ভূকম্পন মাপার যন্ত্র না থাকায় এর মাত্রা জানা যায়নি।
ঠাকুারগাঁও শহরের কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, রাত ৩টা ৮ মিনিটে মাটি কেঁপে ওঠে। অনেকে আতঙ্কে ঘরের ভেতর থেকে বাইরে চলে আসেন। কম্পনটি ৪ থেকে ৫ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল বলে জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম জানান, জেলার কোথাও থেকে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা কত ছিল তা জানা সম্ভব হয়নি।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ