রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবের (ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ) দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে ‘ধর্ষণের পর হত্যা’ মামলায় নিহতের নিখোঁজ বান্ধবী নেহাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে আজিমপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর বাবার করা মামলায় নেহা এজাহারভুক্ত আসামি।
পুলিশ বলছে, নেহা ও আরাফাত ওই দিন রাতে পার্টির আয়োজন করে। সেখানে বিষাক্ত মদ পানেই ও শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ওরা নিয়মিত রাজধানীর বিভিন্ন অভিযাত এলাকায় পার্টির আয়োজন করতো এবং নাচ তো বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এই মামলার সব আসামি গ্রেফতার হয়েছে। সবগুলো ফরেন্সিক রিপোর্ট পেলে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার চার্জশিট জমা দেবে।
এর আগে রাজধানীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ওই শিক্ষার্থীর বন্ধু মর্তুজা রায়হান চৌধুরীকে (২১) ধর্ষণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অন্য চার আসামির মধ্যে তিন জন হলেন- নুহাত আলম তাফসির (২১), আরাফাত (২৮) ও নেহা (২৫)। আরেকজনের নাম জানা যায়নি। মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার মর্তুজা রাহয়ান চৌধুরী ও নুহাত আলম তাফসিরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
জানা গেছে, রিমান্ডে রায়হান পুলিশকে জানিয়েছে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মাঝে প্রায়ই শারীরিক সম্পর্ক হতো। তাফসীরের বাসায় গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক হয়। ওই রাতে তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে ব্যাম্বু রেস্টুরেন্টের সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সেখানে তাদের অবস্থানের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। ওই রেস্টুরেন্টে বসে মদ পান করলেও তারা মদ বাইরে থেকে নিয়ে গিয়েছিল।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সেলিম রেজা বলেন, ওই শিক্ষার্থীর শরীরে জোরপূর্বক ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। খাবারে বিষক্রিয়ার ফলে তার মৃত্যু হতে পারে। আমরা আলামত সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। রিপোর্ট এলে আমরা বিস্তারিত বলতে পারব। নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতনের পর তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষার জন্য আলামত পাঠানো হয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত মদপানে ওই শিক্ষার্থীর আরেক বন্ধু আরাফাত রাজধানীর সিটি জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছে। চিকিৎসকরা আরাফাতের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘অতিরিক্ত মদ্যপান’ উল্লেখ করেছে। মৃত্যুর পরপরই বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনার রহস্য জানতে আরাফাতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। প্রয়োজনে কবর থেকে তার মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাংলা৭১নিউজ/এমকে