বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজধানী ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা, জানলেন প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও অনলাইন প্রচারণা জোরদারের আহ্বান মির্জা ফখরুলের সদর হাসপাতালগুলোতে সিসিইউ চালু করা গেলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব : জুবাইদা রহমান সংবিধান সংস্কারে সুযোগ না পেলে জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চলবে সন্ত্রাসবাদকে কখনোই যৌক্তিক বলা যেতে পারে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু নিহত এভারকেয়ারে নজরুল ইসলাম খান, ভিড় না করার অনুরোধ চিকিৎসকদের টেক্সটাইল, গবেষণা ও কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন সরকার জনগণের প্রতি খুবই আন্তরিক : হুমায়ুন কবির

সেচের আওতায় আসবে ১৯ লাখ হেক্টর জমি

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে ৩৩৪৭৫ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প আগামী একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার কার্যসূচিতে থাকা ১৬টি এজেন্ডার অন্যতম এই প্রকল্প। সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থার ওই সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। গত মাসে কমিশন প্রথমে ৩৪৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রক্রিয়াজাত করলেও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করা হয়।

প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত এক মাসের বিস্তারিত মূল্যায়নের ফলে ব্যয় ১০২৩ কোটি টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে, যা বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় ‘দক্ষতা’ এনেছে।

গত বছর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় উপস্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পটির মোট সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫০৪৪৪ কোটি টাকা। তবে পিইসি এটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করে।

কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে- যা ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলায় কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে। কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহীর মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজটিতে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট থাকবে, যার প্রতিটির প্রস্থ হবে ১৮ মিটার।

পাশাপাশি থাকবে ১৮টি আন্ডারস্লুইস গেট। এতে আরও থাকবে ১৪ মিটার প্রশস্ত নৌ-লক, জলজ পরিবেশ রক্ষায় দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিশ পাস এবং ব্যারাজের ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলসেতু। মেগা প্রকল্পটি থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পদ্মানির্ভর এলাকা (পিডিএ) বাংলাদেশের মোট ভূমির মাত্র ৩ শতাংশ হলেও এখানে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের বসবাস।’ এতে আরও বলা হয়, ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজ ১৯৭০-এর দশকে নির্মাণের পর শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার কিউসেক পানি ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হয় কলকাতা বন্দরের নাব্য বাড়ানোর জন্য। এর ফলে বাংলাদেশের ভাটির দিকে পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ইছামতী-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাসিয়া, আড়িয়াল খাঁ ও বড়ালসহ প্রধান নদীগুলোর প্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এতে কৃষি, মৎস্য, বনায়ন, নৌপরিবহন ও গৃহস্থালি পানির সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আঞ্চলিক প্রতিবেশব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে।

স্বাদুপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় আরও তীব্র হয়েছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবিকায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। প্রস্তাবে বলা হয়, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর ও বরিশালসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের জন্য পদ্মা এখনো একটি প্রধান ভূপৃষ্ঠস্থ পানির উৎস। তাই কৃষি, মৎস্য, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য ‘টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা’ অত্যন্ত জরুরি।

এই প্রেক্ষাপটে পদ্মা নদীতে একটি ব্যারাজ নির্মাণকে নদীব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন, লবণাক্ততা হ্রাস, নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সুন্দরবনসহ সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী আগে আগ্রহ দেখালেও অনিশ্চয়তার কারণে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রস্তাবনায় ব্যারাজ নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর জন্য ১৮৬০২ কোটি টাকা, বৈদ্যুতিক কাজ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৭৪৩ কোটি টাকা এবং গড়াই অফটেক-সংশ্লিষ্ট সুবিধার জন্য ৪১৮ কোটি  টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। গঙ্গা বা পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ধারণা পাকিস্তান আমল থেকেই। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইপি-ওয়াপদা) ১৯৬১ সালে এ বিষয়ে প্রথম সমীক্ষা শুরু করে। এরপর ২০০০ সাল পর্যন্ত একাধিক প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হয়।

২০০২ সালে ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ী অথবা রাজবাড়ীর পাংশায়  ব্যারাজ নির্মাণের সুপারিশ করে। পরে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রকৌশল নকশা প্রণয়ন করা হয়।

বাংলা৭১নিউজ/এসএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com