বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:০১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
‘নির্বাচন করব, কোন দল থেকে করব পরে জানানো হবে’ সংস্কারের অগ্রগতি রক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে: আসিফ নজরুল ভালো চর্চা বাড়াতে হবে, ভোগান্তি কমাতে হবে: অর্থ উপদেষ্টা ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলো এনসিপি জলবায়ু অর্থায়ন হতে হবে ন্যায্য, জনগণকেন্দ্রিক ও সক্ষমতা-ভিত্তিক ভারত হাসিনাকে ফেরত না দিলে কিছুই করার নেই : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আগামী নির্বাচনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা শিগগিরই নরসিংদীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনী নামবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মা-মেয়ের সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে এলো লোমহর্ষক তথ্য মানবাধিকারকে বিশ্বাসের একটি অংশ হিসেবে প্রচার করা উচিত: প্রধান উপদেষ্টা

আরাকান আর্মির অতর্কিত হামলায় ৩০ মিয়ানমার সেনা নিহত

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমারের রাখাইনে আরাকান আর্মির (এএ) আক্রমণে অন্তত ৩০ জান্তা সেনা নিহত হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি এখন আরাকান আর্মির (এএ) নিয়ন্ত্রণে। সামরিক জান্তা শুধু সিত্তে, কিয়াকফিউ ও মানাউং টাউনশিপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। তবে এবার কিয়াকফিউতেও বড় ধরনের হামলার মুখে পড়েছে জান্তা বাহিনী। শনিবারের হামলায় অন্তত ৩০ সেনা নিহত হয়েছে।

স্থানীয় সামরিক সূত্র এই খবর দিয়েছে বলে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেনাবাহিনী থাইন চাউং টাং ঘাঁটি দখল করার পর ওই এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এখানে চীনের বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প রয়েছে। 

আরাকান আর্মির ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, আরকান আর্মি আগে থেকেই মিনপিন গ্রামটির চারপাশে মাইন পেতে সেখান থেকে সরে যায়। সেনাসদস্যরা নিরাপদ ভেবে ওই এলাকায় প্রবেশ করে, ঠিক তখনই আরাকান আর্মি তাদের ওপর গুলি চালায়। 

তিনি বলেন, “তারা ভেবেছিল এলাকা পরিষ্কার, কিন্তু আমরা শক্ত আঘাত হেনেছি।”

তিনি আরও বলেন, “সেনারা মনে করেছিল গ্রাম ফাঁকা, তাই তারা আরাম করে ভেতরে ঢুকেছিল এবং এমনকি দলবেঁধে ছবি তুলছিল। সেই সময়ই আরাকান আর্মির সদস্যরা ভারী ও হালকা অস্ত্র দিয়ে গুলি চালায়।”

সূত্র জানান, অনেকেই মাইনে পা দেওয়ায় বিস্ফোরণে মারা যান। এ ঘটনায় প্রায় ৩০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহতের সংখ্যা আরও বেশি।””

তবে সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মিনপিনের আশেপাশে লড়াই তীব্রতর হচ্ছে, জান্তা বাহিনী বিমান হামলা এবং ড্রোন মোতায়েন করছে।

গ্রামটি থাইং চাউং তাউং ঘাঁটি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে কিয়াকফিউ-রাম্রি সড়কে অবস্থিত। গত ১০ নভেম্বর শাসকগোষ্ঠী গ্রামটি পুনরুদ্ধার করেছিল। সেখানে একটি রাডার স্টেশন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, টাউনশিপের এলসওয়েরের কাছে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতি শাসকগোষ্ঠী তার দানিয়াওয়াদি নৌ ঘাঁটি, ৩২ নম্বর পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় ব্যাটালিয়নগুলোকে ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করেছে। এই বছরের শুরুতে আরকান আর্মিকে প্রতিহত করার জন্য ফ্রন্টলাইন ফাঁড়ি সম্প্রসারণ করেছে এবং নতুনভাবে আক্রমণ শুরু করেছে।

স্থানীয় সাহায্য কর্মীদের মতে, সংঘর্ষের ফলে বেশ কয়েকটি গ্রাম থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে বহু মানুষ। কিউকফিউজুড়ে অভ্যন্তরীণ শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেছেন, “বিমান হামলা অবিরাম চলছে এবং নৌবাহিনী প্রায় প্রতিদিনই গুলি চালাচ্ছে। বাস্তুচ্যুত পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে। এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হলো খাদ্য।”

৩২ নম্বর পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং পাওয়ারচায়না গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উপকূলীয় গ্যাস টার্মিনালের কাছাকাছি উপকূলীয় গ্রামগুলো এখনও আরকান আর্মির দখলে রয়েছে। এগুলো কিয়াকফিউ শহরের জান্তা ব্যাটালিয়ন থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শাসকগোষ্ঠী এই মাসে প্রায় এক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। এই শহরটিতে তিনটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন, একটি পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং তিনটি নৌ ঘাঁটি রয়েছে। 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চীন এখানে শাসনব্যবস্থার জন্য ড্রোন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে এই প্রতিবেদনগুলো যাচাই করতে পারেনি। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, জান্তা বাহিনী কিয়াকফিউ এলাকায় গ্রামগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং পণ্য ও ওষুধ পরিবহন বন্ধ করে রেখেছে। এতে করে শহর ও গ্রাম, দুই জায়গাতেই খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ঘাটতি আরও বেড়ে যাচ্ছে এবং সংঘাত দ্রুত বাড়ছে। 

সূত্র: ইরাবতি

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com