কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’-এর বিরুদ্ধে আবারও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক।
তার মতে, ওপেনএআই মানবজাতির জন্য এআই-এর এক কল্যাণকামী রক্ষক হিসেবে কাজ করার মূল লক্ষ্য ছেড়েছে। পাশাপাশি নিজেকে মুনাফালোভী দানবে পরিণত করেছে। এটি তার (মাস্কের) ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আরও কিছুই নয়।
গতকাল মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে এ কথা বলেন মাস্ক। তিনি দাবি করেন, এই মামলা মূলত দাতব্য প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য রক্ষার লড়াই।
মাস্ক আদালতে বলেন, ‘যদি একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের লুটপাট করা গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়, তাহলে আমেরিকার দাতব্য ব্যবস্থার ভিত্তিই ধ্বংস হয়ে যাবে। এটাই আমার উদ্বেগ।’
তিনি আরও বলেন, সাধারণত কোনো ছুটি না নিয়ে তিনি সপ্তাহে ৮০ থেকে ১০০ ঘণ্টা কাজ করেন এবং জনগণের সেবায় তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাস্ক বলেন, ‘আমি এমন সব কাজ করতে ও সমস্যার সমাধান করতে পছন্দ করি, যা মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করে।’
অন্যদিকে, ওপেনএআইয়ের আইনজীবী বিল স্যাভিট বলেন, মাস্ক ওপেনএআইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে নিজেই শুরুতে লাভের সম্ভাবনা দেখেছিলেন। সেই সঙ্গে কোম্পানিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পক্ষে ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, মাস্ক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে পরে ২০২৩ সালে নিজের বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি এক্সএআই (xAI) প্রতিষ্ঠা করেন।
অন্যদিকে, ওপেনএআই ও স্যাম অল্টম্যানের আইনজীবী বিল সাভিট জুরিদের উদ্দেশে দেওয়া উদ্বোধনী বক্তব্যে পাল্টা অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, ইলন মাস্ক নিজেই টাকার লোভে ওপেনএআইয়ের শুরুর দিকের অর্থায়নে অংশ নেন। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করার চাপ দেন। সাভিটের দাবি, শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী (সিইও) হওয়ারও সম্ভাবনা দেখছিলেন মাস্ক।
আইনজীবী আরও বলেন, মাস্ক মূলত ‘রাজ্যের চাবিকাঠি’ দাবি করেছিলেন। কিন্তু তিনি যখন ব্যর্থ হন, তখনই মামলার পথ বেছে নেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তিনি নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান এক্সএআই শুরু করেন।
সাভিট জুরিদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আসল কথা হলো, ইলন মাস্ক শীর্ষে থাকবেন, সেটাই তিনি চান। আমরা আজ এখানে জড়িয়েছি, কারণ মাস্ক নিজের উদ্দেশ্যে সফল হননি।’
ওপেনএআই জানায়, উন্নত কম্পিউটিং শক্তি অর্জন এবং শীর্ষ বিজ্ঞানীদের ধরে রাখতে ২০১৯ সালে লাভজনক ইউনিট গঠন করা হয়েছিল। যাতে গুগল-এর ডিপমাইন্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা যায়।
মাস্ক ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলাটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন এবং ইতিমধ্যে এটি ‘এআই শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী এক ঐতিহাসিক মামলা’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তিনি ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে ১৫০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। মাস্ক চান, ওপেনএআই আবার অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাক। একই সঙ্গে অল্টম্যান ও ব্রকম্যানকে নেতৃত্ব থেকে সরানো হোক।
ওপেনএআই ২০১৫ সালে মাস্ক ও অল্টম্যানের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। যার লক্ষ্য ছিল মানবকল্যাণে এআই উন্নয়ন। তবে পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি লাভকেন্দ্রিক কাঠামোয় রূপ নেয়। বর্তমানে ওপেনএআইয়ের মূল্য ৮৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আরব নিউজ
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, প্রধান সম্পাদকঃ তাজিন মাহমুদ, সম্পাদক: ডা: সাদিয়া হোসেন, যোগাযোগঃ ৪/এ,ইন্দিরা রোড, মাহবুব প্লাজা (২য় তলা) ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ।মোবাইল: ০১৯৭১-১৯৩৯৩৪, ০১৫৫২-৩১৮৩৩৯, ই-মেইল: [email protected]; [email protected]। ওয়েব:www.bangla71news.com
© All rights reserved © 2018-2025