ইতিবাচক ধারায় ফিরছে আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্য। গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। তবে রপ্তানি আরও বাড়াতে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আমদানির ওপর ভারত সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি ব্যবসায়ীদের। একই সঙ্গে স্থলবন্দরটি দিয়ে সব ধরনের বৈধ পণ্য আমদানির দাবি তাদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যে টানাপড়েন তৈরি হয়, তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে। ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্লাস্টিক ফার্নিচার, পিভিসি সামগ্রী, তুলা, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত জুসের মতো উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন কয়েকটি পণ্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশের কিছু স্থলবন্দর দিয়ে বেশ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। এতে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত রপ্তানি কমে যায়।
এদিকে, ভারত থেকে পণ্য আমদানি অনিয়মিত হওয়ার কারণে রাজস্ব আয় কমেছে বন্দর ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের। মূলত বন্দর দিয়ে ভারত থেকে যেসব পণ্য আনার অনুমতি রয়েছে তার বেশিরভাগই ত্রিপুরার বাইরে থেকে আনতে হয়।
এর ফলে আমদানি ব্যায় মিটিয়ে ভালো মুনাফা করতে না পারায় আমদানিতে অনীহা ব্যবসায়ীদের। তবে তারা বলছে, যদি সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে স্থানীয় বাজারে যখন যে পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে, সেই পণ্য আমদানি করা যাবে।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের তথ্যমতে, চলতি অর্থ বছরের গত মার্চ পর্যন্ত আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৪৩৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুঁটকি, পাথর, আটা, ময়দা, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য।
একই সময়ে ভারত থেকে আমদানি হয় মাত্র ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকার চাল, জিরা ও আগরবাতি। এ থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে রপ্তানি হয়েছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার পণ্য এবং আমদানি হয় ৭ কোটি ৩১ লক্ষ টাকার পণ্য।
আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী রাজীব ভূঁইয়া বলেন, অভ্যুত্থানের পর দুইদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের যে টানাপোড়েন চলছিল, তা এখনও অনেকটাই কমেছে। এর ফলে ধীরে ধীরে বন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানি বাড়ছে। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলো পুনরায় রপ্তানির অনুমোদন পেলে সামগ্রিকভাবে রপ্তানি আয় বাড়বে। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবে, তেমনি সরকারেরও বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ভারতে নতুন কিছু পণ্য রপ্তানির চেষ্টা করছি। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এছাড়া যদি আমাদের সব পণ্য আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়, তাহলে বন্দর দিয়ে ফের পণ্য আমদানি শুরু হবে এবং সরকারেরও রাজস্ব বাড়বে।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার কাজী আল মাসুম বলেন, আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের সবধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে শুল্ক কর্তৃপক্ষ। যেসব পণ্যের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আছে, সেগুলো বেশি পরিমাণে রপ্তানি হতো। ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার হবে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, প্রধান সম্পাদকঃ তাজিন মাহমুদ, সম্পাদক: ডা: সাদিয়া হোসেন, যোগাযোগঃ ৪/এ,ইন্দিরা রোড, মাহবুব প্লাজা (২য় তলা) ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ।মোবাইল: ০১৯৭১-১৯৩৯৩৪, ০১৫৫২-৩১৮৩৩৯, ই-মেইল: [email protected]; [email protected]। ওয়েব:www.bangla71news.com
© All rights reserved © 2018-2025