ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণা আসতেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান।
পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান এইমাত্র ঘোষণা করেছে যে, তাদের প্রণালি (হরমুজ প্রণালি) এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ধন্যবাদ!’
তবে কিছুক্ষণ পরই আরেকটি পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং ব্যবসার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর ও বহাল থাকবে—এবং তা চলবে যতক্ষণ না ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পূর্ণ হচ্ছে’।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যেহেতু বেশিরভাগ বিষয়েই আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, তাই এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা করেন, চলমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময়টুকু বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই তেল পরিবহন পথটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খোলা থাকবে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংগতি রেখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।’
আরাঘচি আরও জানান, ‘ইরানের বন্দর ও সমুদ্র বিষয়ক সংস্থা কর্তৃক পূর্বঘোষিত সমন্বিত রুট অনুযায়ী এই চলাচল অব্যাহত থাকবে’।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর গত রোববার হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ শুরুর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ইরানি বন্দর অবরোধের অব্যহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র সৌদি আরব।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, রিয়াদ ট্রাম্প প্রশাসনকে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নিতে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে চাপ দিচ্ছে।
আরব কর্মকর্তারাদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি আরব আশঙ্কা করছে, ইরানের বন্দরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তেহরানকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যাহত করতে প্ররোচিত করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের সমস্ত পণ্য চলাচল বা নির্গমনের উপর অবরোধ আরোপের মার্কিন সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো ইরানের আগে থেকেই পঙ্গু হয়ে থাকা অর্থনীতির উপর চাপ বাড়ানো। কিন্তু সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে যে, ইরান এর প্রতিশোধ হিসেবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে—যা লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ এবং বর্তমানে সৌদি তেল রফতানির জন্য অপরিহার্য।
সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
বাংলা৭১নিউজ/জেএস
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, প্রধান সম্পাদকঃ তাজিন মাহমুদ, সম্পাদক: ডা: সাদিয়া হোসেন, যোগাযোগঃ ৪/এ,ইন্দিরা রোড, মাহবুব প্লাজা (২য় তলা) ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ।মোবাইল: ০১৯৭১-১৯৩৯৩৪, ০১৫৫২-৩১৮৩৩৯, ই-মেইল: [email protected]; [email protected]। ওয়েব:www.bangla71news.com
© All rights reserved © 2018-2025