
পাবনায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে শিশুদের সংক্রামক রোগ হাম। প্রতিরোধে শুরু হয়েছে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জরুরি টিকাদান কর্মসূচি।
রোববার (৫ এপ্রিল) সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জান চৌধুরী এ টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক হাবিবুর রহমান, পাবনা সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. কামরুজ্জামান, ইউনিসেফের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের হেলথ অফিসার ডা. বিকাশ চন্দ্র দাশ, ডেপুটি সিভিল সার্জন খায়রুল কবির, পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ, পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসসহ বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জরুরি এ কর্মসূচির আওতায় জেলার সদর, আটঘরিয়া, বেড়া ও ঈশ্বরদী উপজেলার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৬৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ রয়েছে। এ উপজেলার দোগাছি ও হেমায়েতপুর ইউনিয়নে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জান চৌধুরী বলেন, ৬০৪ কোটি টাকার ১০ ধরনের টিকা ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করে আমরা ইউনিসেফকে চিঠি দিয়েছি। এসব টিকা ক্রয়ে ইউনিসেফও এগিয়ে এসেছে।
তাদের সহায়তায় গ্যাভি থেকে আমরা টিকাগুলো নিয়ে হামের দ্রুত সংক্রমণ রোধে কাজ করছি। আপাতত কোনো ধরনের টিকার সংকট নেই। দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে হামের এই সংক্রমণ দ্রুতই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলেও জানান সচিব।
এদিকে পাবনায় প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২০ জন হাম আক্রান্ত রোগী পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর বিপরীতে ২৩ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪১ জন। এদের মধ্যে চারজন প্রাপ্ত বয়স্ক ও বাকিরা শিশু। চলতি বছর জেলায় মোট ১৯৩ জন রোগী হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বাংলা৭১নিউজ/এবি