বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবলকে কোনো ট্রফি উপহার দিতে পারেননি হাভিয়ের কাবরেরা। তবে কোচ হিসেবে তিনি যে রেকর্ড গড়েছেন তা বাংলাদেশের কারও নেই। ১৯৭৩ সালে ফুটবলে প্রথম জাতীয় দল গড়া হয়। সেবার মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত মারদেকা কাপ টুর্নামেন্টে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় বাংলাদেশের।
কোচ হন সাহেব আলী। সেই থেকে শুরু। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে ৬৭ জন কোচের দেখা মিলেছে। এর মধ্যে আবার দায়িত্ব ছাড়ার পর কেউ কেউ পুনরায় কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন। কিন্তু কাবরেরার মতো টানা দায়িত্ব পালন কেউ করেননি।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে স্প্যানিশ কাবরেরা জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন। তাঁর কোচ হওয়াটাও ছিল অন্যরকম ঘটনা। যা কখনো বিশ্ব ফুটবলেও ঘটেনি। বাংলাদেশের কোচ হওয়ার আগে কাবরেরা কোনো দেশ তো দূরের কথা, ক্লাবের হেড বা সহকারী কোচের দায়িত্বও পালন করেননি।
এমন একজনকে কোচ করে বাফুফে ব্যাপক সমালোচিত হতে থাকে। তার পরও তাঁকে সরানো যায়নি। ২০২২ থেকে এখন পর্যন্ত তিনিই জাতীয় দলের কোচ। টানা ৪ বছর ২ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আগামীকাল তাঁর প্রশিক্ষণে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুরের মাটিতে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ।
ধারণা করা হচ্ছে এটি যেমন জাতীয় দলের গ্রুপের শেষ ম্যাচ। তেমনি কাবরেরার কোচ হিসেবে বাংলাদেশের শেষ দায়িত্ব পালন। ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৩-০ গোলে শোচনীয় হারাতেই তাঁর বিদায়টা নিশ্চিত। সত্যিই কী কাল কাবরেরার শেষ ম্যাচ হতে চলেছে। বলাটা কঠিন, কেননা এ সিদ্ধান্ত নেবে বাফুফে বা ন্যাশনাল টিমের ম্যানেজমেন্ট কমিটি। সিঙ্গাপুর ইতোমধ্যে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এশিয়ান কাপ চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।
এখন যদি সিঙ্গাপুরের মাটিতে সিঙ্গাপুরকে হারাতে পারে তাহলে কি কোচের টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ একবারই এশিয়ান কাপ চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে। এরপর অতীতে যতই ব্যর্থতা থাকুক না কেন, এবার অনেকে আশাবাদী ছিলেন চূড়ান্ত পর্বে খেলার ব্যাপারে। হামজা, সামিত, জায়ান ও ফাইমিদুলদের মতো মেধানী প্রবাসী খেলোয়াড় থাকার পরও এ ফল হতাশাজনক। অবশ্য এ ক্ষেত্রে অনেকে আবার বলেন, জাতীয় দল খারাপ করলেও লাভটা হয়েছে কাবরেরার।
কেননা অন্য কোথাও চাকরি নিতে গেলে তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ তো থাকবে তিনি হামজাদের প্রশিক্ষক ছিলেন। বাছাই পর্বে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তিটা ছিল ঘরের মাঠে ভারতকে হারানোটা। ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয়। যে কারণে আনন্দটা বেশি হয়েছিল। দীর্ঘ ৪ বছর ২ মাস দায়িত্বে থাকলেও বাংলাদেশকে কোনো চ্যাম্পিয়নের ট্রফি উপহার দিতে পারেননি স্প্যানিশ এই কোচ।
অবশ্য সাফল্য এনে দিয়েছেন হাতেগোনা কয়েক জন কোচ। জার্মানির অটো ফিস্টার জেতান মিয়ানমানের চ্যালেঞ্জ কাপ। ইরাকের সামির সাকি সাফ গেমসে প্রথম সোনা জেতান। জর্জ কোটানের প্রশিক্ষণে সাফ ফুটবল আর বাংলাদেশ এসএ গেমসে দ্বিতীয়বার সোনা জেতে সার্বিয়ার জোয়ান জর্জভিসের প্রশিক্ষণে। এই তো বাংলাদেশের সাফল্য। কাবরেরা অবশ্য আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ১০ জয় এনে দিয়েছেন।
এটি সম্ভব হয়েছে দীর্ঘ সময়ে দায়িত্বে থাকায়। ৩৮ ম্যাচে কাবরেরার প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ ১০ জয়, ১০ ড্র ও ১৮ ম্যাচে হার মেনেছে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষেই কাবরেরা বিদায় হবে তাও না। বিষয়টি নিশ্চয় বাফুফে পরে ঘোষণা দেবে। এটাও তো শোনা যাচ্ছে, যতই ব্যর্থ হন কাবরেরাকে ধরে রাখতে বাফুফের একটি মহল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই শেষ পর্যন্ত কী যে হয় বলা মুশকিল। সবচেয়ে বেশি সময়ে থাকা জাতীয় দলের কোচের ভাগ্যে কী ঘটে তার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে।
বাংলা৭১নিউজ/এবি
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, প্রধান সম্পাদকঃ তাজিন মাহমুদ, সম্পাদক: ডা: সাদিয়া হোসেন, যোগাযোগঃ ৪/এ,ইন্দিরা রোড, মাহবুব প্লাজা (২য় তলা) ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ।মোবাইল: ০১৯৭১-১৯৩৯৩৪, ০১৫৫২-৩১৮৩৩৯, ই-মেইল: [email protected]; [email protected]। ওয়েব:www.bangla71news.com
© All rights reserved © 2018-2025