শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন

ইরান যুদ্ধ ইতিহাসের ভয়াবহতম জ্বালানি সঙ্কট

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল শুক্রবার এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

ফাতিহ বিরল বলেছেন, নীতিনির্ধারক ও বাজার সংশ্লিষ্টরা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতাকে এখনো অবমূল্যায়ন করছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে এযাবৎকালের সবচেয়ে গুরুতর জ্বালানি সংকট হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। আইইএর এই প্রধান বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ছয় মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইউরোপের পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ফাতিহ বিরল বর্তমান এই সংঘাতকে ‘ইতিহাসের বৃহত্তম বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, সত্তরের দশকের জ্বালানি সংকটের চেয়েও বর্তমানে বেশি তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। এমনকি ২০২২ সালে ইউরোপ রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করেছিল, বর্তমানে তার দ্বিগুণ পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিরল বলেন, বিশ্ববাজার ও নীতিনির্ধারকরা মধ্যপ্রাচ্যের এই বিপর্যয়ের মাত্রা বুঝতে ভুল করছেন। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ বর্তমানে এই অঞ্চলে আটকা পড়ে আছে। তিনি বলেন, মানুষ বুঝছে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এই পরিস্থিতির গভীরতা ও ফলাফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই।

আইইএ প্রধান বলেন, জ্বালানি সরবরাহের ‘প্রধান ধমনীগুলো’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শস্যের সার, প্লাস্টিক তৈরির পেট্রোকেমিক্যালস, পোশাক ও উৎপাদন শিল্পসহ সালফার ও হিলিয়ামের মতো অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপসাগরীয় জ্বালানি রপ্তানির প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ সচল না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম বাড়তেই থাকবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন তিনি। চলতি সপ্তাহে ইরানের বৃহত্তম ‘সাউথ পার্স’ গ্যাসক্ষেত্র এবং কাতারের ‘রাস লাফান’ কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-পাল্টা হামলার পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বিরল বলেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সচল করতে অনেক সময় লাগবে। কিছু স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে চালু করা সম্ভব হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় প্রয়োজন হবে।

জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে গত সপ্তাহে আইইএ তাদের বৈশ্বিক মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। আইইএ প্রধান বলেন, এটি সংস্থাটির মোট মজুতের মাত্র ২০ শতাংশ। তবে তিনি বলেছেন, কেবল মজুত থেকে তেল ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয়। এর একমাত্র সমাধান হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করা।

ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে রাশিয়ার গ্যাসের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিরল বলেন, মস্কোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করা ঠিক হবে না।

সত্তরের দশকের জ্বালানি সংকটের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, এই সংকট বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পারমাণবিক বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে, বৈদ্যুতিক যানের জোয়ার আসবে। তবে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কয়লার ব্যবহারও সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com