একটা সময় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত হতো বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। তবে আওয়ামী লীগ টানা প্রায় চার মেয়াদ ক্ষমতায় থাকাকালে বন্ধ ছিল এই কুচকাওয়াজ। দেশের শাসনক্ষমতার পালাবদলে বিএনপি প্রায় ২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরেছে। ফলে প্রায় দেড় যুগ পর আবারও স্বাধীনতা দিবসে ফিরছে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ।
আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস সামনে রেখে কুচকাওয়াজের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। জাতীয় প্যারেড স্কয়ার গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিভিন্ন সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। চলছে বিশাল প্যান্ডেল আর মঞ্চ নির্মাণের কাজ।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিন বাহিনী প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি অতিথিরা।
মহড়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সেনা, নৌ, বিমান, কোস্টগার্ড, পুলিশ, বিজিবি ও বিএনসিসি সদস্যরা। অনুশীলনের মাধ্যমে ঝালিয়ে নিচ্ছেন নিজেদের।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ৯টার পরপর প্যারেড গ্রাউন্ডে আসেন কুচকাওয়াজের অধিনায়ক, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক। প্রথমে ডামি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মঞ্চে আসে সুশৃঙ্খল মিলিটারি পুলিশের দল। এরপর রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে একইভাবে মঞ্চে আসে মিলিটারি পুলিশ।
সশস্ত্র সালামসহ কুচকাওয়াজের অনুমতির পর্বের পর ডামি রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন অধিনায়ক। এরপর শুরু হয় কুচকাওয়াজ। একে একে রাষ্ট্রপতিকে সালাম দিয়ে মঞ্চ অতিক্রম করে কন্টিনজেন্টগুলো।
এবারের কুচকাওয়াজে অংশ নেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিট-প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, সাঁজোয়া কন্টিনজেন্ট, ইস্ট বেঙ্গল কন্টিনজেন্ট, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট কন্টিনজেন্টসহ বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট। থাকবে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে জাতীয় পতাকাবাহী কন্টিনজেন্ট। বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী কন্টিনজেন্ট ছাড়াও বর্ডার গার্ড, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি কন্টিনজেন্ট এবং প্যারাট্রুপার কন্টিনজেন্ট অংশ নেবে কুচকাওয়াজে।
মহড়ায় অংশ না নিলেও মূল কুচকাওয়াজে পদাতিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হবে যান্ত্রিক বহরও। সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বাহিনীর নানা সরঞ্জামও যান্ত্রিক বহরে যুক্ত হবে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, প্রজাতন্ত্র দিবস বা একটি দেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কুচকাওয়াজ বা প্যারেড অনুষ্ঠানের রেওয়াজ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ জানান, ভারত, পাকিস্তান, চীন, উত্তর কোরিয়াসহ এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই সামরিক সক্ষমতার প্রকাশে এই ধরনের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, যেসব দেশে কুচকাওয়াজ হয়, প্রায় প্রতিটি দেশই তাদের সামরিক সক্ষমতার নিদর্শন ডিসপ্লে করে। যেমন- ভারত তাদের মিসাইল ডিসপ্লে করে। আমাদের এখানে রাষ্ট্রবাদের প্রকাশটা দেখি মিলিটারি বাহিনীর কুচকাওয়াজের মাধ্যমে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য দেশটি প্রস্তুত- এমন বিষয়ও কুচকাওয়াজের প্রতীকী রূপ।
বাংলা৭১নিউজ/এএস
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, প্রধান সম্পাদকঃ তাজিন মাহমুদ, সম্পাদক: ডা: সাদিয়া হোসেন, যোগাযোগঃ ৪/এ,ইন্দিরা রোড, মাহবুব প্লাজা (২য় তলা) ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ।মোবাইল: ০১৯৭১-১৯৩৯৩৪, ০১৫৫২-৩১৮৩৩৯, ই-মেইল: [email protected]; [email protected]। ওয়েব:www.bangla71news.com
© All rights reserved © 2018-2025