প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে চালু থাকা লটারি পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শহরে ভর্তি সংকটের কারণে অতীতে লটারি পদ্ধতি চালু করা হলেও এটি পুরোপুরি যুক্তিসংগত নয়। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ভর্তির পদ্ধতি কীভাবে হবে, সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রবিবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আগে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হলেও এখন লটারির মাধ্যমে শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে। এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, বর্তমানে দেশে তিন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা— ইংরেজি মাধ্যম, সাধারণ শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষা— চলমান রয়েছে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ছে, আর যাদের সে সুযোগ নেই তারা অন্য ব্যবস্থায় পড়তে বাধ্য হচ্ছে। এই তিনটি পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব কি না— এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গ্রামীণ ও শহুরে বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় প্রি-প্রাইমারি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানে ভর্তি নিয়ে তেমন প্রতিযোগিতা দেখা যায় না। তবে ঢাকা শহরসহ বড় শহরগুলোতে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বেশি হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, এই জটিলতা নিরসনের জন্য বিগত সরকার লটারি পদ্ধতি চালু করেছিল। তবে আমার কাছে এটি পুরোপুরি যুক্তিসংগত বলে মনে হয় না।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী বছরে ভর্তি পদ্ধতি কী হবে তা নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও সংসদ সদস্যদের মতামত নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে জনমত তৈরি করে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বয়ের বিষয়টিও সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোকে সরকারি কাঠামোর আওতায় এনে দেশের শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়ে কাজ চলছে।
এছাড়া ইবতেদায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে কীভাবে মূলধারার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
বাংলা৭১নিউজ/এবি
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, প্রধান সম্পাদকঃ তাজিন মাহমুদ, সম্পাদক: ডা: সাদিয়া হোসেন, যোগাযোগঃ ৪/এ,ইন্দিরা রোড, মাহবুব প্লাজা (২য় তলা) ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ।মোবাইল: ০১৯৭১-১৯৩৯৩৪, ০১৫৫২-৩১৮৩৩৯, ই-মেইল: [email protected]; [email protected]। ওয়েব:www.bangla71news.com
© All rights reserved © 2018-2025