সাতক্ষীরার ২৩০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় মন্দির কমপ্লেক্সে চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে ‘মায়ের বাড়ি’ নামে পরিচিত এই মন্দিরটি জেলার প্রাচীন মন্দির স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মধ্যরাতে শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরের একাধিক কক্ষের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে প্রতিমার স্বর্ণালংকার, রুপা ও দানবাক্সের নগদ অর্থ ছুরি করে নিয়ে যায়। মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৮ লাখ টাকার সম্পদ চুরি হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, চোরেরা ‘মায়ের বাড়ি’ মন্দির কমপ্লেক্সের কালীমন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, রাধাগোবিন্দ মন্দির ও জগন্নাথ মন্দিরের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে প্রতিমার বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও দানবাক্সের অর্থ চুরি করে নিয়ে যায়।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চার ভরি ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের বালা, এক ভরি ওজনের দুই জোড়া শাঁখা, চার আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, আট আনা ওজনের একটি ‘মায়ের জিভ’, আট আনা ওজনের একটি চেইন, দশ আনা ওজনের একটি নথ, চার আনা ওজনের দুই জোড়া পেটি, প্রায় পাঁচ ভরি রুপা, দানবাক্সের নগদ সাত হাজার টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।
মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও শিক্ষক দীপাসিন্ধু তরফদার বলেন, দুই দিন আগে শহরের কাটিয়া মন্দিরেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। বারবার মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাই।
মন্দিরের কর্মকর্তা অসীম দাশ সোনা বলেন, মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহীনুর চৌধুরী বলেন, আমরা খবর পেয়েছি এবং ঘটনাস্থলে আমাদের টিম কাজ করছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
বাংলা৭১নিউজ/এবি
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, প্রধান সম্পাদকঃ তাজিন মাহমুদ, সম্পাদক: ডা: সাদিয়া হোসেন, যোগাযোগঃ ৪/এ,ইন্দিরা রোড, মাহবুব প্লাজা (২য় তলা) ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ।মোবাইল: ০১৯৭১-১৯৩৯৩৪, ০১৫৫২-৩১৮৩৩৯, ই-মেইল: [email protected]; [email protected]। ওয়েব:www.bangla71news.com
© All rights reserved © 2018-2025