
রাজধানীর হাতিরঝিলে ব্যক্তিগত গাড়িতে ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার মধ্যে পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপকমিশনারকে (এডিসি) বেদম মারধর করা হয়েছে।
বুধবার মধ্যরাতের এ হামলায় আহত মাহাফুজ্জামানের শরীরে ১৭টি সেলাই লেগেছে। এখন তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এ ঘটনার পরে অভিযানে নেমে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য বৃহস্পতিবার দিয়েছে পুলিশ। তবে তাদের নাম বা পরিচয় জানায়নি।
হামলার শিকার মাহাফুজ্জামান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগে কর্মরত। তিনি বিসিএস ৩১ ব্যাচের কর্মকর্তা।
ঘটনার বিষয়ে ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন শেষে ব্যক্তিগত গাড়িতে বাসায় যাওয়ার পথে হাতিরঝিলে অন্য একটা গাড়ির আরোহীরা তার ওপর এ হামলা চালায়।
ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপ কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদ বলেন, রাতে বাসায় ফেরার সময় পুলিশ প্লাজার পেছনে গাড়ি চালানো নিয়ে অন্য একটি গাড়ির আরোহীদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা তার ওপর হামলা চালায়।
মামলার বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ওসি গোলাম মর্তুজা বলেন, হামলাকারীরা ব্যবসায়ী। ঘটনার আগে তারা মদ পান করেছিলেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হাতিরঝিল থানার এক পুলিশ সদস্য বলেন, হাতিরঝিলের পাশের একটি বার থেকে মদ পান করে হামলাকারীরা হাতিরঝিলে আসেন। এসময় এডিসি মাহাফুজ্জামানের গাড়িটির সঙ্গে তাদের গাড়ির সামান্য ঘষা লাগে বা দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে তারা এডিসির গাড়ির পথ আটকালে প্রথমে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। গাড়ির সামনের কাঁচে পুলিশ লেখা দেখে হামলাকারীরা টিটকারি করেন এবং ফোন করে তাদের আরও কয়েকজন সহযোগীকে ডেকে আনেন। পরে তারা ১৫-২০ জন মিলে এডিসি মাহাফুজ্জামানকে বেদম মারধর করেন। পরে আহত মাহাফুজ্জামানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শরীরে ১৭টি সেলাই দিতে হয়।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস