ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর শুক্রবার মধ্যরাত থেকে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে আবারো বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে রামবানের রাজগড়ে মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরো চারজন। ঘটনাটি ঘটেছে রামবন জেলার রাজগড় তহসিলের দ্রুবলা, নাটনা ও কুমাইতে এলাকায়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজগড় গ্রামে দুটি বাড়ি ও একটি স্কুল ভবন ভেসে যায়। উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে। তীব্র বৃষ্টিপাতের জেরে অনেক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
এদিকে, শনিবার ভোরে জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় ভূমিধসের কারণে একটি বাড়ি ভেঙে পুরো পরিবার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। এ ঘটনায় পাঁচ শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং ঘটনা নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করেছেন। পোস্টে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন।
গত এক সপ্তাহ ধরে চলা প্রবল বৃষ্টিতে জম্মু-কাশ্মীরে বিপর্যস্ত জনজীবন। ইতিমধ্যেই এলাকার একাধিক নদীর পানিস্তর বেড়ে গেছে। এছাড়াও, ভূমিধস, উপড়ে পড়া গাছ এবং বোল্ডার পড়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ হয়েছে।
গত পাঁচ দিন ধরে জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক বন্ধ রয়েছে, যার ফলে দুই হাজারেরও বেশি গাড়ি আটকা পড়েছে। এছাড়াও, জম্মু অঞ্চলের ৯টি রাজ্য সড়কও বন্ধ রয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর পুঞ্চ, রেয়াসি, রাজৌরি, কিশতওয়ার এবং উধমপুরের জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করেছে। এছাড়াও আগামী শনিবার ও রবিবার পর্যন্ত একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের কাছে সৃষ্ট ভূমিধসে ৩২ জন প্রাণ হারান। এর ফলে বৈষ্ণোদেবী যাত্রাও বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে। এ নিয়ে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে ৭৪ জন তীর্থযাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।
গত দুই সপ্তাহে বৃষ্টিপাত সম্পর্কিত ঘটনায় প্রায় দেড়শো জনের কাছাকাছি প্রাণ হারিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরে। এর আগে গত ১৪ আগস্ট কিশতওয়ারে কমপক্ষে ৬৫ জন তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল, ১৭ আগস্ট কাঠুয়ায় মেঘভাঙা বৃষ্টিতে পাঁচ শিশুসহ অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে, ভারতের প্রতিবেশী পাকিস্তানও বন্যায় বিপর্যস্ত। পাকিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর লাহোরও বন্যার পানি তলিয়ে গেছে। প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো লাহোর শহর বন্যার কবলে পড়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে বন্যায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএন
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, প্রধান সম্পাদকঃ তাজিন মাহমুদ, সম্পাদক: ডা: সাদিয়া হোসেন, যোগাযোগঃ ৪/এ,ইন্দিরা রোড, মাহবুব প্লাজা (২য় তলা) ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ।মোবাইল: ০১৯৭১-১৯৩৯৩৪, ০১৫৫২-৩১৮৩৩৯, ই-মেইল: [email protected]; [email protected]। ওয়েব:www.bangla71news.com
© All rights reserved © 2018-2025