দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে দুই দিনের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। আজ শনি ও আগামীকাল রবিবার আট ঘণ্টা করে এ কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল নেতা ইব্রাহিম খোকন ও হুমায়ুন কবির।
জানা গেছে, বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বন্দর জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে যোগ দেননি বন্দরের কর্মচারী ও বেসরকারি শ্রমিকরা। ফলে জিসিবি টার্মিনাল, সিসিটি ও এনসিটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমাদের কর্মসূচিতে কর্মচারী ও শ্রমিকেরা যোগ দিয়েছেন। বিকাল চারটা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।”
এর আগে শুক্রবার রাতে হুমায়ুন কবির বলেন, “শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়োজিত শ্রমিক কর্মচারীরা সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করবে। পরদিন রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সব প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হবে। যদি এর মধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে তাহলে রবিবার বিকালে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং সংগঠনটির সাবেক সিবিএর পক্ষ থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বন্দর রক্ষা পরিষদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-সহ অন্যান্য সংগঠনও কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক দল নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, “সরকার বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এনসিটি দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এনসিটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে।”
সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর বেশিদিন নেই। তারা কেন শেষ দিকে এসে তাড়াহুড়ো করে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছে, নিশ্চয়ই তার কোনও কারণ আছে। বন্দর নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা নিতে পারে নির্বাচিত সরকার। দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে কোনও অবস্থাতেই আমরা বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে দেব না।”
এদিকে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এক বিজ্ঞপ্তিতে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএম
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, প্রধান সম্পাদকঃ তাজিন মাহমুদ, সম্পাদক: ডা: সাদিয়া হোসেন, যোগাযোগঃ ৪/এ,ইন্দিরা রোড, মাহবুব প্লাজা (২য় তলা) ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ।মোবাইল: ০১৯৭১-১৯৩৯৩৪, ০১৫৫২-৩১৮৩৩৯, ই-মেইল: [email protected]; [email protected]। ওয়েব:www.bangla71news.com
© All rights reserved © 2018-2025