রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চাইলেন ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এআইআইবি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ ব্যবসায়ীদের কী কী সংকট আছে, জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায় সরকার ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা কদমতলীতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার ‘ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কম দেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইন করা হয়েছে’ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন: প্রতিমন্ত্রী

ইতালি যাওয়ার প্রলোভনে সাগরে মৃত্যু : মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

১৪ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট গত ১২ জানুয়ারি মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮) নামের দুই মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে। গুরুদাস বারইকে দক্ষিণ খালিয়া গ্রাম থেকে এবং মো. মোতালেব মাতব্বরকে দামেরচর বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়।

সিআইডি জানায়, উন্নত জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা আদায় করে মানবপাচার চক্রটি। পরে তাদের অবৈধভাবে লিবিয়া পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে গেলে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন— সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) ও ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।

নৌকাডুবির পর চারজনের মরদেহ গাবিস ইউনির্ভাসিটি হাসপাতালে এবং অপর চারজনের মরদেহ জেরবা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হয়। পরে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহগুলো দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার পর নিহত সজল বৈরাগীর বাবা সুনিল বৈরাগী বাদী হয়ে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তাররা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল এবং মূল পাচারকারীদের নির্দেশে অর্থ ও লোক সংগ্রহের কাজ করত। গ্রেপ্তার মো. মোতালেব মাতব্বরের বিরুদ্ধে পূর্বে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত, পাচার করা অর্থের লেনদেনের উৎস নির্ধারণ এবং পুরো মানবপাচার নেটওয়ার্ক উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com