
সৌদি আরব এবং পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইরানে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন সামরিক ব্লক তৈরি করতে পারে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি এগিয়ে নিতে তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে চলছে। দেশটির প্রতিনিধিরা আশা করছেন, চুক্তিটি বাস্তবায়ন হবে।
এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামবাদের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে তুরক্ত ও রিয়াদ। এই দেশের সমর্থনের পর পূর্ব আফ্রিকার দেশ সুদানের সঙ্গে ১৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান বিক্রির জন্য চুক্তি চূড়ান্ত করছে পাকিস্তান।
রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সামরিক ১০টি কারাকোরাম-৮ হালকা আক্রমণ বিমান, স্কাউটিং এবং কামিকাজে আক্রমণের জন্য ২০০টিরও বেশি ড্রোন এবং উন্নত বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এয়ার মার্শাল আমির মাসুদ রয়টার্সকে বলেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। যদি পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরব একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, তাহলে এটি এই অঞ্চলের তিনটি বৃহত্তম দেশকে সংযুক্ত করবে। যাতে প্রতিটি দেশ সামরিক সুবিধার আওতায় আসবে।
তেল সমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত সামরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের ভিত্তিতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে পাকিস্তান।
সৌদি আরব পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা ও জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ। অন্যদিকে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ, যা পাকিস্তানের মোট অস্ত্র আমদানির ১১ শতাংশ।
বাংলা৭১নিউজ/এসএম