বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ্র আহমেদের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁস, নিয়োগ বাণিজ্য এবং নিজস্ব লোককে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এই অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিতভাবে দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ: প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ বাণিজ্যে অবৈধ উপার্জন
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শুভ্র আহমেদ ২০১৮ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পাউবোতে যোগদান করেন। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৭ বছর তিনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর মানব সম্পদ পরিদপ্তরের নিয়োগ শাখায় কর্মরত ছিলেন। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সকল নিয়োগ পরীক্ষাসহ নিয়োগ পরীক্ষার সকল প্রশ্নপত্র নির্ধারণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন কার্যক্রম বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত হত। নিয়োগ শাখায় কর্মরত থাকার সুবিধার্থে শুভআহমেদ প্রশ্নপত্র টাইপিং ও প্রিন্টিং এর কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ফলে খুব সহজেই তিনি পরীক্ষার পূর্বে অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র সাপ্লাই দিতেন। এসময় শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁস করার মাধ্যমেই তিনি কোটি কোটি টাকা অর্জন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, শুষ্ক মৌসুমেও নারায়নগঞ্জের অধিকাংশ একালায় জলাবদ্ধতা কমেনি। জানা যায়, পরিচালন খাতে বরাদ্দকৃত টেন্ডার তার নিজস্ব লোককে পাইয়ে দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজের টাকা তারা ভাগাভাগি করে নেন।
এলাকাবাসী কোন সমস্যা নিয়ে তার দপ্তরে গেলে অধিকাংশ সময়ই তাকে অফিসে পান না। তদুপরি,ব্যক্তিগত কাজে প্রায়ই তিনি অফিসের বাইরে থাকেন এবং অফিসের কাজের জন্য ব্যবহৃত গাড়িটিও তিনি অফিস সময়ের পরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। যার ফলে সরকারের বিপুল অর্থ তেল খরচ বাবদ অপচয় হচ্ছে।
সম্পদের বিবরণী
দুদকে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অবৈধ উপার্জনের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার অবৈধ উপার্জনের মাধ্যম ব্যাপক সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নিজ জেলা নওগাঁয় ২০২২ সালে একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেন। এছাড়াও ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১৮০০ বর্গফুটের একটি প্লট ছাড়াও ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে তার নামে-বেনামে ফ্ল্যাট, জমি, খামার এবং একটি রিসোর্টের শেয়ার রয়েছে।
বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টেও তার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
[caption id="attachment_13638" align="alignnone" width="700"]
নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ্র আহমেদ[/caption]
রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শুভ্র আহমেদ নিজেকে বিগত সরকারের আমলের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিতেন। এছাড়া তিনি নিজেকে ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করতেন। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি তার অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে যেতেন এবং ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না।
পদোন্নতি
দুর্নীতিগ্রস্থ ও সুবিধাবাদী শুভ্র আহমেদ ৫ আগস্টের পর বিপুল অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে চাকুরীতে মেধাক্রমে অনেক পিছনে থাকা সত্ত্বেও নির্বাহী প্রকৌশলীর পদোন্নতি বাগিয়ে নেন যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে কখনোই পানি উন্নয়ন বোর্ডে মেধাক্রমের বাইরে থেকে পদোন্নতি পায়নি। শুধু পদোন্নতিই নয়- আওয়ামী ফ্যাসিস্ট এই কর্মকর্তা নারায়নগঞ্জের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বও পেয়ে যান। অভিযোগে বলা হয়, যোগদানের কিছুদনের মধ্যেই এই দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা তার দুর্নীতির প্রভাব বিস্তার করেন নারায়নগঞ্জ জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল প্রকার প্রকল্পের কাজে।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
দুদকে দায়ের করা অভিযোগে প্রকৌশলী শুভ্র আহমেদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান ও তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য
এই বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী শুভ্র আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় এবং দূর্ন্ীতি দমন কমিশনে দেওয়া অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। তিনি বলেন, অভিযোগ দিয়ে কিছু হয়না। সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সাথে তার ঘনিষ্টতা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, কারো সাথে সম্পর্ক থাকাটা দোষের কিছু নয়। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ
উপদেষ্টা সম্পাদক : সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, প্রধান সম্পাদকঃ তাজিন মাহমুদ, সম্পাদক: ডা: সাদিয়া হোসেন, যোগাযোগঃ ৪/এ,ইন্দিরা রোড, মাহবুব প্লাজা (২য় তলা) ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ।মোবাইল: ০১৯৭১-১৯৩৯৩৪, ০১৫৫২-৩১৮৩৩৯, ই-মেইল: [email protected]; [email protected]। ওয়েব:www.bangla71news.com
© All rights reserved © 2018-2025